দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে আবারও উড়ল লাল-সবুজের বিজয় নিশান। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা ধরে রাখল বাংলাদেশ। মালদ্বীপের মালের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য ড্র থাকার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে কোচ মার্ক কক্সের শিষ্যরা।
ম্যাচ রিপোর্ট: মাঠের লড়াইয়ে সমানে সমান
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে মেতে ওঠে। ১৩ মিনিটে রোনান সুলিভানের নিখুঁত ফ্রি-কিক থেকে মিঠু চৌধুরী দারুণ এক হেড করলেও তা পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। ১৮ মিনিটে মোহাম্মদ মানিকের মাপা ক্রসে রোনান পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হলে লিড নেওয়া হয়নি বাংলাদেশের।
প্রথমার্ধে বাংলাদেশের দাপট বেশি থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে ভারত তাদের চিরচেনা আক্রমণাত্মক ফুটবল শুরু করে। বিশেষ করে মাঝমাঠের দখল নিয়ে তারা কয়েকবার বাংলাদেশের রক্ষণভাগে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তবে বাংলাদেশের গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিন এবং রক্ষণভাগের জমাটবদ্ধতা ভারতের সব প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয়। ম্যাচের ৩২ মিনিটে ভারত ফাঁকা পোস্ট পেলেও গোললাইন থেকে অবিশ্বাস্য দক্ষতায় বল প্রতিহত করেন বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬৬ মিনিটে নাজমুল হুদা ফয়সালের জায়গায় রোনানের ভাই ডেকলান সুলিভান মাঠে নামলে বাংলাদেশের আক্রমণে গতি বাড়ে। দুই ভাইয়ের সমন্বয়ে শেষ দিকে ভারত বেশ চাপে পড়ে যায়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কোনো দলই জালের দেখা না পাওয়ায় টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচটি সরাসরি টাইব্রেকারে গড়ায়।
টাইব্রেকারের নাটকীয়তা ও মাহিনের বীরত্ব
টাইব্রেকারে স্নায়ুর লড়াইয়ে বাজিমাত করে বাংলাদেশের যুবারা। ভারতের প্রথম শট নিতে আসা রিষি সিংয়ের শটটি ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে রুখে দিয়ে বাংলাদেশকে শুরুতেই মানসিকভাবে এগিয়ে দেন গোলরক্ষক মাহিন।
বাংলাদেশের হয়ে সফলভাবে লক্ষ্যভেদ করেন মুরশেদ আলী, চন্দন রায় এবং আব্দুল ফাহিম। ভারতের চতুর্থ শটটি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসলে শিরোপার পথ পরিষ্কার হয়ে যায়। এরপর ভারতের পঞ্চম শটটি পোস্টের ওপর দিয়ে চলে গেলে সব আলো কেড়ে নেন রোনান সুলিভান। তার নেওয়া শেষ শটটি গোল হতেই শুরু হয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বাঁধভাঙ্গা উদযাপন।
আরও পড়ুন: মার্কিন জনগণের উদ্দেশে ইরানি প্রেসিডেন্টের খোলা চিঠি: ‘যুদ্ধ নয়, আমরা শান্তির পক্ষে’
কেন এই জয় বাংলাদেশের ফুটবলে টার্নিং পয়েন্ট?
(বিডি নিউজ সত্যকথা বিশ্লেষণ)
বাংলাদেশের এই শিরোপা জয় কেবল একটি টুর্নামেন্ট জয় নয়, এর পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী প্রভাব:
১. প্রবাসী ট্যালেন্ট হান্ট: রোনান সুলিভান এবং ডেকলান সুলিভানের মতো প্রবাসী বাংলাদেশি ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তি দলের শক্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশি প্রতিভাগুলোকে কাজে লাগাতে পারলে জাতীয় দলও বড় সাফল্য পেতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন