সত্যকথা রিপোর্ট
![]() |
| বিআরটিএ নতুন বাস ভাড়া তালিকা ২০২৬ (ঢাকা ও আন্তজেলা)। |
মহানগরীর ভাড়া: সর্বনিম্ন ১০ টাকা অপরিবর্তিত
বিআরটিএ-এর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকাই থাকছে। তবে দূরত্বের ভিত্তিতে ভাড়ার হারে পরিবর্তন এসেছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই নতুন ভাড়ার হার কোনোভাবেই গ্যাসচালিত বাসের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না। এছাড়া এসিবাসের ভাড়া সরকার নির্ধারণ করে না বিধায় তা মালিকপক্ষ ও বাজারের প্রতিযোগিতার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ রুটের ভাড়া:
গুলিস্তান-গাজীপুর: ৪১.৫ কিলোমিটার দূরত্বের এই পথে ভাড়া ১০৫ টাকা (প্রতি কিমি ২.৫৩ টাকা)।
চিড়িয়াখানা-কেরানীগঞ্জ: ২১ কিলোমিটার দূরত্বের এই পথে পুরো ভাড়া ৫৩ টাকা। তবে চিড়িয়াখানা থেকে টেকনিক্যাল পর্যন্ত সর্বনিম্ন ১০ টাকা এবং শ্যামলী পর্যন্ত ১৪ টাকা দিতে হবে।
মহাখালী-গাজীপুর: ৫১ আসনের বাসে এই রুটের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৪ টাকা।
চট্টগ্রাম মহানগরীর ভাড়া:
কালুরঘাট-নিউমার্কেট: ১৪ কিলোমিটার পথের ভাড়া ৩৫ টাকা। তবে চকবাজার থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত সর্বনিম্ন ১০ টাকায় যাতায়াত করা যাবে।
নিউমার্কেট-বিমানবন্দর: ১৮.৬ কিলোমিটার পথের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৭ টাকা।
আন্তজেলা ও দূরপাল্লার ভাড়া: আসন বিন্যাসে ভিন্নতা
দূরপাল্লার বাসের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এখানে একটি কারিগরি বিষয় রয়েছে—এই ভাড়া মূলত ৫১ আসনের বাসের জন্য প্রযোজ্য। আরামদায়ক যাতায়াতের জন্য যেসব বাসে আসন কমিয়ে ৪০টি করা হয়েছে, সেখানে আনুপাতিক হারে ভাড়া কিছুটা বেশি দিতে হবে। পাশাপাশি পথের ফেরি ও সেতুর টোলও এই ভাড়ার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের ভাড়া (৫১ আসন বনাম ৪০ আসন):
ঢাকা-চট্টগ্রাম (২৪২ কিমি): টোলসহ ৫১ আসনের বাসে ৫৫২ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৭০৪ টাকা।
ঢাকা-সিলেট (২৫৭ কিমি): ৫১ আসনের বাসে ৫৮০ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৭৪০ টাকা।
ঢাকা-বরিশাল (পদ্মা সেতু হয়ে): ৫১ আসনের বাসে ৪৬৪ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৫৯২ টাকা।
ঢাকা-রাজশাহী (২৬৭ কিমি): যমুনা সেতুর টোলসহ ৫১ আসনের বাসে ৬২৫ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৭৯৭ টাকা।
ঢাকা-রংপুর: ৫১ আসনের বাসে ৭৫১ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৯১১ টাকা।
সতর্কবার্তা ও বিআরটিএ-এর পদক্ষেপ
বিআরটিএ স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রকাশিত তালিকার বাইরে ১ টাকাও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক ও শ্রমিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাত্রী সাধারণের সুবিধার্থে প্রতিটি বাসে দৃশ্যমান স্থানে এই ভাড়ার তালিকা টাঙিয়ে রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। কোনো বাস যদি তালিকা প্রদর্শন না করে বা বেশি ভাড়া দাবি করে, তবে বিআরটিএ-এর হটলাইনে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিডি নিউজ সত্যকথা বিশ্লেষণ: ভাড়ার সমন্বয় নাকি যাত্রীর ভোগান্তি?
বিডি নিউজ সত্যকথা-এর বিশ্লেষক দলের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন ভাড়া বাড়া একটি স্বাভাবিক অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া হলেও, এর বাস্তবায়ন পর্যায়ে সবসময়ই সাধারণ যাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। ১১ পয়সা ভাড়া বাড়ার সুযোগ নিয়ে অনেক সময় বাসে ২-৫ টাকা পর্যন্ত বাড়তি নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
আমাদের বিশ্লেষণে কয়েকটি বিষয় উদ্বেগের:
১. গ্যাসচালিত বাসের কারসাজি: ডিজেলের দাম বাড়লে গ্যাসচালিত বাসের ভাড়া বাড়ার কথা নয়। কিন্তু বাস্তবে রাজপথে ডিজেল ও গ্যাসচালিত বাস আলাদা করা সাধারণ যাত্রীর জন্য কঠিন, ফলে তারা অনেক সময় প্রতারিত হন।
২. টোল ও ফেরি ভাড়া: ভাড়ার সাথে টোল যুক্ত করার ফলে যাতায়াত খরচ অনেকটাই বেড়েছে। বিশেষ করে পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু ব্যবহারকারী যাত্রীদের ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি হয়েছে।
৩. তদারকির অভাব: বিআরটিএ তালিকা প্রকাশ করলেও মাঠ পর্যায়ে তা কতটুকু মানা হচ্ছে, তা দেখার জন্য নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা জরুরি।
পরিশেষে বলা যায়, ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত যেমন পরিবহন মালিকদের লোকসান থেকে বাঁচাবে, তেমনি সরকারের উচিত হবে সাধারণ মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রাখা। পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা না ফিরলে শুধু তালিকা প্রকাশ করে সুফল পাওয়া কঠিন।
আরও পড়ুন: ভ্যাট ফাঁকি রুখতে এনবিআর-এর ‘ডিজিটাল মাস্টারপ্ল্যান’: প্রতিটি পণ্যে বসছে কিউআর কোড
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন