স্পোর্টস ডেস্ক | বিডি নিউজ সত্যকথা
সোমবার দুপুরে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক লিটন দাস। মেঘলা আকাশের নিচে বোলাররা কিছুটা সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হলেও, নিউজিল্যান্ডের ওপেনার ক্লার্ক শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে ব্যাট চালাতে থাকেন। শরীফুল ইসলামের প্রথম ওভারেই দুটি বাউন্ডারি মেরে কিউইরা তাদের শক্ত অবস্থানের জানান দেয়। যদিও দ্বিতীয় ওভারে তাওহিদ হৃদয়ের সরাসরি থ্রোতে বিপজ্জনক টিম রবিনসন শূন্য রানে আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন, তবে সেই ধাক্কা নিউজিল্যান্ডকে দমাতে পারেনি।
তিনে নামা ডেন ক্লেভার এবং ওপেনার ক্লার্ক মিলে টাইগার বোলারদের ওপর রীতিমতো শাসন শুরু করেন। পাওয়ার প্লে-তেই কিউইদের স্কোরবোর্ডে ওঠে ৬১ রান। ক্লার্ক ও ক্লেভার দুজনেই ব্যক্তিগত ৫১ রান করে আউট হন। তবে কিউইদের এই সংগ্রহ আরও বড় হতে পারত যদি রিশাদ হোসেন মাঝপথে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট না নিতেন। শেষ দিকে অধিনায়ক নিক কেলির ৩৯ এবং জশ ক্লার্কসনের ১৪ বলে ২৭ রানের ক্যামিও ইনিংসে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৮২ রান সংগ্রহ করে নিউজিল্যান্ড।
বাংলাদেশের ধীরগতির শুরু ও চাপের মুখে জয়
১৮৩ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা আশানুরূপ হয়নি বাংলাদেশের। দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম সতর্কতার সাথে শুরু করলেও রানের গতি বাড়াতে ব্যর্থ হন। সাইফ ১৭ এবং তামিম ২০ রান করে ফিরে গেলে গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে কিছুটা নিস্তব্ধতা নেমে আসে। অধিনায়ক লিটন দাস এসে ১৫ বলে ২১ রানের ছোট একটি ইনিংস খেললেও দ্রুত বিদায় নেন তিনি। ১০ ওভার শেষে যখন বাংলাদেশের স্কোর ৭৭ রান, তখন লক্ষ্যটা মনে হচ্ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে।
হৃদয়-ইমন-শামীম: তিন তরুণের বীরত্বগাথা
ঠিক যখন দলের হার প্রায় নিশ্চিত মনে হচ্ছিল, তখনই ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন তাওহিদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন। ইমনের ১৪ বলে ২৮ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংসটি বাংলাদেশের রানের চাকায় গতি ফিরিয়ে দেয়। ইমন আউট হওয়ার পর ক্রিজে আসেন শামীম হোসেন। এরপর শুরু হয় হৃদয় ও শামীম তান্ডব।
হৃদয় ছিলেন আজ অন্য গ্রহের ক্রিকেটার। কিউই বোলারদের লাইন-লেংথ তছনছ করে মাত্র ২৬ বলে তুলে নেন ফিফটি। মাঠের চারদিকে তার শট খেলার দক্ষতা দর্শকদের মোহিত করেছে। অপরাজিত ৫১ রানের ইনিংস খেলার পথে তিনি হাঁকান ৩টি ছক্কা ও ২টি চার। অন্যদিকে ফিনিশার হিসেবে নিজের সামর্থ্য আবারও প্রমাণ করলেন শামীম হোসেন। মাত্র ১৩ বলে ৩১ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে তিনি ম্যাচটি নিউজিল্যান্ডের হাত থেকে ছিনিয়ে আনেন। বাংলাদেশ ২ ওভার বাকি থাকতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়।
চট্টগ্রামে নতুন ইতিহাস
এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজেদের মাটিতে রান তাড়ার নতুন রেকর্ড গড়ল। এর আগে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭১ রান তাড়া করে জয় ছিল বাংলাদেশের আগের সেরা রেকর্ড। কিউইদের বিপক্ষে এই ১৮৩ রানের জয় টাইগারদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাসের নতুন মাত্রা যোগ করল।
একনজরে সংক্ষিপ্ত স্কোর কার্ড
নিউজিল্যান্ড: ১৮২/৬ (২০ ওভার)
ক্লার্ক: ৫১ (৩৭ বল)
ডেন ক্লেভার: ৫১ (২৮ বল)
নিক কেলি: ৩৯ (২৭ বল)
জশ ক্লার্কসন: ২৭* (১৪ বল)
বোলিং (বাংলাদেশ): রিশাদ হোসেন ৪-০-৩২-২, শেখ মেহেদী ৪-০-৩১-১, শরীফুল ৪-০-৩৬-১।
বাংলাদেশ: ১৮৩/৪ (১৮ ওভার)
তাওহিদ হৃদয়: ৫১* (২৭ বল)
শামীম হোসেন: ৩১* (১৩ বল)
পারভেজ ইমন: ২৮ (১৪ বল)
তানজিদ তামিম: ২০ (২৫ বল)
লিটন দাস: ২১ (১৫ বল)
বোলিং (নিউজিল্যান্ড): ইশ সোধি ৪-০-৪০-২, বেন স্মিথ ৩-০-৩৩-১।
ফলাফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচ সেরা: তাওহিদ হৃদয়।
সিরিজ: ৩ ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ১-০তে এগিয়ে।
বিডি নিউজ সত্যকথা বিশ্লেষণ
টাইগারদের এই জয় প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের তরুণ টপ-অর্ডার এবং মিডল-অর্ডার এখন বড় লক্ষ্য তাড়া করতে মানসিকভাবে অনেক বেশি পরিপক্ক। বিশেষ করে তাওহিদ হৃদয়ের পরিণত ব্যাটিং এবং শামীম হোসেনের ফিনিশিং রোল বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ভবিষ্যতের জন্য বড় ইতিবাচক দিক। তবে ওপেনিং জুটির স্ট্রাইক রেট নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টকে আরও কাজ করতে হবে। আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ার প্লে-র সুবিধা নিতে না পারলে বড় দলের বিপক্ষে জয় পাওয়া সবসময় সহজ হবে না। বোলারদের মধ্যে রিশাদ হোসেনের নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে বৈচিত্র্য এনেছে।
আরও পড়ুন: বিআরটিএ-এর নতুন বাস ভাড়ার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন