সত্যকথা রিপোর্ট
| ভ্যাট ফাঁকি রোধে এবার প্রতিটি পণ্যে আসছে কিউআর কোড। ছবি: প্রতীকী। |
তামাক ও পানীয় দিয়ে শুরু, লক্ষ্য সব পণ্য
এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, প্রাথমিকভাবে তামাকজাত পণ্য ও বোতলজাত পানীয় দিয়ে এই ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা শুরু করার চিন্তা করা হচ্ছে। তামাক খাতে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব ফাঁকির ঘটনা ঘটে। প্রচলিত ব্যান্ডরোলের নকশা ও আঠার ধরন পরিবর্তনের পাশাপাশি সেখানে কিউআর কোড বা উন্নতমানের ডিজিটাল কোড সংযোজন করা হবে।
পরবর্তীতে এই প্রযুক্তি ধাপে ধাপে সাবান, শ্যাম্পু, টিস্যুসহ প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে সম্প্রসারণ করা হবে। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন কোড ব্যবহার করছে, তাই জাতীয় পর্যায়ে এই প্রযুক্তি চালু করা খুব একটা কঠিন হবে না বলে মনে করছেন এনবিআর প্রধান।
হুইসেল ব্লোয়ারদের জন্য পুরস্কার
এই ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় চমক হলো সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, "বাংলাদেশেও যদি প্রতিটি পণ্যে কিউআর কোড চালু করা যায়, তাহলে কর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও পণ্য স্ক্যান করে জানতে পারবে সেটি বৈধভাবে উৎপাদিত হয়েছে কি না।"
যদি স্ক্যান করার পর কোনো পণ্যে অনিয়ম ধরা পড়ে, তবে ব্যবহারকারী তাৎক্ষণিকভাবে সিস্টেমে রিপোর্ট করতে পারবেন। এই তথ্য প্রদানকারীদের ‘হুইসেল ব্লোয়ার’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের পুরস্কৃত করার পরিকল্পনাও রয়েছে এনবিআরের। একই সঙ্গে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্যবসাবান্ধব কর প্রশাসন ও ‘মৌমাছি’ মডেল
রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে এনবিআর চেয়ারম্যান একটি চমৎকার উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি বলেন, কর প্রশাসনের লক্ষ্য হওয়া উচিত ব্যবসাকে ধ্বংস করা নয়, বরং বিকাশে সহায়তা করা। তিনি মৌমাছির উদাহরণ দিয়ে বলেন, "মৌমাছি যেমন ফুলের ক্ষতি না করে মধু সংগ্রহ করে, রাজস্ব আহরণও তেমনভাবে হওয়া উচিত।"
তিনি অতিরিক্ত জরিমানা এবং জটিল আইনি প্রক্রিয়ার কারণে ব্যবসায়ীদের অসন্তোষের বিষয়টিও স্বীকার করেন। তিনি বলেন, শাস্তির ভয়ে যেন নতুন প্রজন্ম ব্যবসা করতে ভয় না পায়, সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। কর ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এনবিআর কর্মকর্তাদের বিবেচনামূলক ক্ষমতা কমানো হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে ম্যানুয়াল অডিট নির্বাচন বন্ধ করে স্বয়ংক্রিয় বা ঝুঁকিভিত্তিক পদ্ধতিতে অডিট বাছাই শুরু হয়েছে।
বিডি নিউজ সত্যকথা বিশ্লেষণ: ডিজিটাল ট্র্যাকিং কি পারবে রাজস্ব বৈষম্য কমাতে?
বিডি নিউজ সত্যকথা-এর বিশ্লেষক দলের মতে, এনবিআরের এই কিউআর কোড ভিত্তিক ট্র্যাকিং পদ্ধতি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে। বর্তমানে বাজারে অনেক প্রতিষ্ঠান ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে কম দামে পণ্য বিক্রি করে, যা সৎ বা 'কমপ্লায়েন্ট' ব্যবসায়ীদের জন্য অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করে। ডিজিটাল ট্র্যাকিং চালু হলে এই বৈষম্য অনেকটাই কমে আসবে।
তবে আমাদের বিশ্লেষণে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে:
প্রযুক্তিগত অবকাঠামো: প্রান্তিক পর্যায়ের ছোট দোকানদার বা সাধারণ মানুষের কাছে এই প্রযুক্তি কতটা সহজবোধ্য হবে এবং ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
সার্ভার সক্ষমতা: কোটি কোটি পণ্যের ডেটা রিয়েল-টাইমে প্রসেস করার জন্য এনবিআরের কেন্দ্রীয় সার্ভারকে অত্যন্ত শক্তিশালী ও সুরক্ষিত হতে হবে।
সচেতনতা: সাধারণ মানুষকে কিউআর কোড স্ক্যান করতে উৎসাহিত করার জন্য বড় ধরণের প্রচারণা প্রয়োজন।
পরিশেষে বলা যায়, এনবিআর চেয়ারম্যানের এই ‘মৌমাছি’ মডেল যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে জনগণের ট্যাক্সের টাকা চুরি হওয়া বন্ধ হবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বৃদ্ধি পাবে।
আরও পড়ুন: বিপদে মহান আল্লাহর আসমানি সাহায্য পাওয়ার শক্তিশালী দোয়া
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন