ধর্ম ডেস্ক | বিডিনিউজ সত্যকথা
![]() |
পবিত্র কুরআনের সূরা আল-কামারের ১০ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হযরত নূহ (আ.)-এর সেই ঐতিহাসিক দোয়া, যা আসমানি সাহায্য পাওয়ার চাবিকাঠি। |
দোয়ার প্রেক্ষাপট: যখন নূহ (আ.) নিরুপায় হলেন
পবিত্র কুরআনের সূরা আল-কামারের ১০ নম্বর আয়াতে এই দোয়াটি বর্ণিত হয়েছে। ইতিহাসের পাতায় দেখা যায়, হযরত নূহ (আ.) সাড়ে নয়শত বছর ধরে তাঁর জাতিকে সত্যের পথে ডেকেছিলেন। কিন্তু বিনিময়ে তিনি পেয়েছিলেন কেবল অবজ্ঞা ও নির্যাতন। যখন তিনি দেখলেন তাঁর জাতি আর ঈমান আনবে না এবং তিনি সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়েছেন, তখন তিনি আল্লাহর দরবারে আরজি পেশ করেন— "হে আমার প্রতিপালক! আমি তো অসহায় (পরাজিত), অতএব আপনি আমাকে সাহায্য করুন।"
এই এক আর্তনাদে আসমানের দরজা খুলে গিয়েছিল। নেমে এসেছিল আসমানি সাহায্য, যা নূহ (আ.)-কে রক্ষা করেছিল এবং জালিমদের ধ্বংস করেছিল।
দোয়ার অর্থ ও তাৎপর্য
আরবি: رَبِّ أَنِّي مَغْلُوبٌ فَانْتَصِرْ
উচ্চারণ: রাব্বি আন্নি মাগলুবুং ফান্তাসির।
বাংলা অর্থ: "হে আমার প্রতিপালক! আমি তো (শত্রুর কাছে) পরাজিত বা অসহায় হয়ে পড়েছি, অতএব আপনি আমায় সাহায্য করুন।"
এখানে ‘মাগলুব’ শব্দের অর্থ হলো এমন এক অসহায় অবস্থা, যেখানে মানুষের আর করার কিছু থাকে না। এই শব্দের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর কাছে নিজের পূর্ণ আত্মসমর্পণ প্রকাশ করে।
এই দোয়ার বিশেষ ফজিলত ও উপকারিতা
১. অসম্ভবকে সম্ভব করা: নূহ (আ.)-এর এই দোয়ার পর এক অভাবনীয় প্লাবনের মাধ্যমে আল্লাহ সাহায্য পাঠিয়েছিলেন। তাই যখন কোনো কাজ মানুষের কাছে অসম্ভব মনে হয়, তখন এই দোয়াটি পাঠ করলে আল্লাহর কুদরতে সমাধানের পথ খুলে যায়।
২. শত্রুর ষড়যন্ত্র থেকে মুক্তি: ব্যক্তিগত বা কর্মজীবনে কেউ যদি প্রতিহিংসার শিকার হন, তবে এই দোয়াটি তার জন্য ঢাল হিসেবে কাজ করে। এটি মজলুমের দোয়া হিসেবে সরাসরি আরশে আজিমে কবুল হয়।
৩. মানসিক প্রশান্তি: দুশ্চিন্তা ও হতাশায় ডুবে থাকা মানুষের জন্য এই দোয়া এক মহৌষধ। এটি পাঠ করলে মনে বিশ্বাস জন্মে যে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সত্তা (আল্লাহ) আমার সাথে আছেন।
৪. বিপদ মুক্তির চাবিকাঠি: ওলামায়ে কেরামদের মতে, যেকোনো কঠিন সংকটে এই দোয়াটি বেশি বেশি পাঠ করলে দ্রুত আসমানি সাহায্য পাওয়া যায়।
কিভাবে আমল করবেন?
এই দোয়াটি আমল করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় নেই, তবে বিশেষ কিছু সময়ে এটি বেশি ফলপ্রসূ হয়:
প্রতিদিন ফরজ নামাজের পর ৩ বা ৭ বার পাঠ করুন।
গভীর রাতে তাহাজ্জুদের সিজদায় গিয়ে নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে এই দোয়াটি পড়ুন।
যেকোনো বিপদে পড়ার সাথে সাথে অবিরাম এটি তিলাওয়াত করতে থাকুন।
মানুষের শক্তি সীমাবদ্ধ, কিন্তু আল্লাহর ক্ষমতা অসীম। যখন দুনিয়ার সব দরজা বন্ধ হয়ে যায়, তখন ‘রাব্বি আন্নি মাগলুবুং ফান্তাসির’ পাঠ করার মাধ্যমে মুমিনরা আল্লাহর বিশেষ আশ্রয়ে চলে যান। আপনার জীবনের যেকোনো কঠিন যুদ্ধে জয়ী হতে এই ছোট দোয়াটি হতে পারে আপনার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
আরও পড়ুন: ‘জুলাই সনদ’ জনগণের সঙ্গে আমাদের পবিত্র চুক্তি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন