শিপিং করিডোরে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও জাহাজ ফেরত
আইআরজিসির বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে এমন কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারবে না, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলপন্থী দেশগুলোর বন্দর থেকে আসছে অথবা সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। এই ঘোষণার বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে দ্রুত। শুক্রবার আইআরজিসি-র নৌবাহিনী তিনটি ভিন্ন দেশের বিশাল কনটেইনার জাহাজকে করিডোর থেকে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে। আইআরজিসি-র দাবি, এই জাহাজগুলো অনুমোদিত করিডোরে প্রবেশের চেষ্টা করছিল।
ট্রাম্পের দাবিকে 'মিথ্যা' আখ্যা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছিলেন যে, ইরান ১০টি তেলবাহী জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে এবং আলোচনার পথে হাঁটছে। তবে আইআরজিসি এই দাবিকে সরাসরি ‘মিথ্যা তথ্য’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, ট্রাম্পের এই বিভ্রান্তিকর বার্তার কারণেই জাহাজগুলো প্রণালির দিকে এগিয়ে এসেছিল। সংস্থাটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ এবং কেউ প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে “কঠোর পরিণতি” ভোগ করতে হবে।
বেসামরিক জনগণের প্রতি সতর্কবার্তা ও 'মানবঢাল' বিতর্ক
এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর সাধারণ জনগণকে এক বিশেষ সতর্কবার্তায় আইআরজিসি জানিয়েছে, যেসব জায়গায় মার্কিন সেনারা অবস্থান করছে, সেখান থেকে যেন সাধারণ মানুষ দ্রুত সরে যায়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক পৃথক বিবৃতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর হোটেল ও বাণিজ্যিক ভবনগুলোকে সতর্ক করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন সেনারা তাদের নিয়মিত ঘাঁটি ছেড়ে এখন বিভিন্ন হোটেল ও অফিসে আত্মগোপন করছে এবং সাধারণ মানুষকে ‘মানবঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছে। আরাগচি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো হোটেল বা স্থাপনা যেন মার্কিন সেনাদের আশ্রয় না দেয়।
সরাসরি হামলার নির্দেশ
বিশ্ব অর্থনীতিতে হরমুজ সংকটের প্রভাব
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইরানের এই পদক্ষেপকে 'গেম চেঞ্জার' হিসেবে দেখছেন:
১. তেল সরবরাহ ও মূল্যবৃদ্ধি: বিশ্বের মোট খনিজ তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই পথ বন্ধ হওয়ার অর্থ হলো বিশ্ববাজারে তেলের দামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটা, যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি সামলানোর প্রচেষ্টাকে বড় ধাক্কা দেবে।
২. মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ: ট্রাম্প যখন আলোচনার টেবিলে ইরানকে আনার দাবি করছেন, তখন আইআরজিসি-র এই কঠোর অবস্থান মূলত ট্রাম্পের কূটনৈতিক ইমেজে আঘাত হানার একটি কৌশল।
৩. বেসামরিক ঝুঁকি: মার্কিন সেনাদের হোটেল বা অফিসে লুকিয়ে থাকার যে অভিযোগ ইরান করেছে, তা যদি সত্য হয়, তবে ভবিষ্যতে বড় কোনো হামলায় ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হবে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধের এই ঘোষণা মূলত ওয়াশিংটনকে একটি চরম বার্তা দেওয়ার চেষ্টা। একদিকে ট্রাম্পের ‘শান্তি প্রস্তাব’ আর অন্যদিকে ইরানের ‘সমুদ্রপথ অবরোধ’—এই দ্বিমুখী অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক বিশাল বারুদস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আগামী কয়েক দিন এই অঞ্চলের নৌ-নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের গতিবিধিই বলে দেবে সংঘাত কতদূর গড়াবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন