সত্যকথা ডেস্ক
জুন থেকে বাজারে আসছে নতুন ১০০ ডলারের নোট
ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগামী জুন মাস থেকে নতুন নকশার ১০০ ডলারের নোট ছাপানো শুরু হবে। এই নতুন মুদ্রায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের পাশাপাশি ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টের স্বাক্ষরও থাকবে। ১৮৬১ সালে ফেডারেল কারেন্সি বা মার্কিন ডলার প্রবর্তনের পর ট্রাম্পই হতে যাচ্ছেন প্রথম কোনো ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট, যাঁর স্বাক্ষর সরাসরি নোটের ওপর স্থান পাচ্ছে। গত দেড় শতাব্দী ধরে মার্কিন ব্যাংকনোটগুলোতে ট্রেজারারের স্বাক্ষর থাকার যে অবিচ্ছিন্ন ধারা ছিল, তা এই নতুন নকশায় বিলুপ্ত করা হচ্ছে।
ঐতিহাসিক প্রথার অবসান ও নতুন নেতৃত্ব
এতদিন পর্যন্ত মার্কিন ডলারে সাধারণত ট্রেজারি সেক্রেটারি এবং ইউনাইটেড স্টেটস ট্রেজারারের স্বাক্ষর থাকত। সাবেক ট্রেজারার লিন মালেরবা ছিলেন সেই দীর্ঘ ধারার শেষ প্রতিনিধি। তবে নতুন সিদ্ধান্তে ট্রেজারার ব্র্যান্ডন বিচের স্বাক্ষর বাদ দিয়ে সেখানে খোদ প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর যুক্ত করা হচ্ছে। ব্র্যান্ডন বিচ নিজেই এই পদক্ষেপকে সমর্থন করে জানিয়েছেন, এটি প্রেসিডেন্টের নেতৃত্ব এবং দেশের প্রতি তাঁর নিবেদনের অনন্য এক প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। তবে বর্তমানে বাজারে প্রচলিত জ্যানেট ইয়েলেন এবং লিন মালেরবার স্বাক্ষরযুক্ত নোটগুলো এখনই বাতিল হচ্ছে না; সেগুলো নতুন সিরিজের পাশাপাশি লেনদেনে সচল থাকবে।
স্বর্ণমুদ্রা ও আইনি জটিলতা
প্রশাসন থেকে আরও জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্টের নাম এবং কৃতিত্বকে জনমানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এটি একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ট্রাম্পের ছবি সম্বলিত একটি স্মারক স্বর্ণমুদ্রার নকশাও অনুমোদন করেছে একটি ফেডারেল আর্টস প্যানেল। তবে আইনি জটিলতার কারণে সাধারণ ১ ডলারের কয়েনে ট্রাম্পের ছবি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, মার্কিন আইন অনুযায়ী জীবিত কোনো ব্যক্তির ছবি সাধারণ মুদ্রায় ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। কিন্তু কাগজের নোটে স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে এমন কোনো আইনি বাধা না থাকায় ট্রাম্পের স্বাক্ষর যুক্ত করার পথ সুগম হয়েছে।
ট্রাম্পের ‘কারেন্সি পলিটিক্স’ ও অর্থনৈতিক বার্তা
আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে বহুমুখী দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন:
১. ব্যক্তিত্বের ব্রান্ডিং: ট্রাম্প সবসময়ই নিজের নাম ও কৃতিত্বকে অমর করে রাখতে পছন্দ করেন। ডলারে স্বাক্ষর যুক্ত করার মাধ্যমে তিনি মার্কিন অর্থনীতির ইতিহাসে নিজেকে স্থায়ীভাবে খোদাই করে নিলেন।
২. ডলারের আধিপত্য: ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট দাবি করেছেন, ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমেরিকা অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে রয়েছে। ডলারে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর থাকা বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের শক্তি ও আস্থার নতুন বার্তা দেবে।
৩. রাজনৈতিক বিতর্ক: সমালোচকদের মতে, মুদ্রাকে রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ১৬৫ বছরের প্রথা ভেঙে ট্রেজারারের স্বাক্ষর সরিয়ে দেওয়া মূলত প্রাতিষ্ঠানিক ঐতিহ্যের চেয়ে ব্যক্তিগত ইমেজকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বহিঃপ্রকাশ।
নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য ও নকশা অপরিবর্তিত
যদিও স্বাক্ষর পরিবর্তন করা হচ্ছে, তবে ডলারের মূল নকশা ও ছবিগুলো আগের মতোই থাকছে। বিদ্যমান মার্কিন আইন অনুযায়ী, ‘ইন গড উই ট্রাস্ট’ কথাটি এবং মৃত ব্যক্তিদের (যেমন বেঞ্জামিন ফ্র্যাঙ্কলিন বা আব্রাহাম লিংকন) প্রতিকৃতি ব্যবহারের নিয়ম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ট্রেজারি বিভাগ শুধুমাত্র মুদ্রার নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য বৃদ্ধির অংশ হিসেবে এই স্বাক্ষর প্রতিস্থাপনের ক্ষমতা ব্যবহার করছে।
আগামী গ্রীষ্মকাল থেকেই এই নতুন স্বাক্ষরযুক্ত ১০০ ডলারের নোট আমেরিকা ছাড়িয়ে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স, টেলিগ্রাফ অনলাইন এবং দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন