সত্যকথা রিপোর্ট
![]() |
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: বিডি নিউজ সত্যকথা। |
বিগত সরকারের ব্যর্থতা ও বর্তমানের সুরক্ষা
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেন যে, বিগত দুই সরকারের আমলে স্বাস্থ্যখাতে চরম অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছিল। বিশেষ করে শিশুদের হামের টিকার মতো একটি মৌলিক বিষয়ে গাফিলতি করায় অনেক পরিবার তাদের সন্তান হারিয়েছে। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আমরা পুনরায় টিকাদান কর্মসূচিকে শক্তিশালী করেছি। আমরা প্রতিটি শিশুর জীবন রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ এবং ইতিমধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি।”
স্বাস্থ্যখাত পুনর্গঠনে বড় ঘোষণা: জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ
দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আমূল বদলে দেওয়ার লক্ষে প্রধানমন্ত্রী এক যুগান্তকারী ঘোষণা দেন। তিনি জানান, সরকার ক্রমান্বয়ে স্বাস্থ্যখাতে জাতীয় আয়ের (GDP) ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তিনি মনে করেন, পর্যাপ্ত বাজেট ছাড়া তৃণমূলের মানুষকে গুণগত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব নয়।
যুক্তরাজ্যের এনএইচএস (NHS) মডেলে রূপান্তর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে যুক্তরাজ্যের বিশ্বখ্যাত ‘ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস’ বা এনএইচএস (NHS) মডেলে সাজানোর পরিকল্পনার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যেখানে চিকিৎসা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং নাগরিকের মৌলিক অধিকার হবে। এই লক্ষ্যে প্রতিটি নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।” এই ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে রোগীর পূর্ববর্তী সব তথ্য সংরক্ষিত থাকবে, ফলে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে চিকিৎসাসেবা নেওয়া সহজ হবে।
নারী প্রাধান্য দিয়ে এক লাখ নতুন নিয়োগ
স্বাস্থ্যখাতের জনবল সংকট কাটাতে প্রধানমন্ত্রী এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিশাল পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, এই নিয়োগের ৮০ শতাংশই হবে নারী কর্মী। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন নারী কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা আরও সংবেদনশীল ও কার্যকর হবে। প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পূর্ণাঙ্গ মাতৃত্ব সেবা কেন্দ্রে রূপান্তর করার নির্দেশও দেন তিনি।
মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য বার্তা ও নিরাপত্তা
সম্মেলনে সারা দেশ থেকে আসা পাঁচ শতাধিক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা হলেন স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি। আপনাদের নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে সরকার বদ্ধপরিকর।” তিনি কর্মকর্তাদের চলাচলের সুবিধার জন্য গাড়ি, তেল ও চালকের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে বর্তমান আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এটি কিছুটা বিলম্বিত হতে পারে বলে তিনি কর্মকর্তাদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
'বিডি নিউজ সত্যকথা' বিশ্লেষণ: স্বাস্থ্যখাতে এক নতুন দিগন্তের হাতছানি
বিডি নিউজ সত্যকথা-এর রাজনৈতিক ও স্বাস্থ্য বিশ্লেষক প্যানেল মনে করছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই বক্তব্য ও পরিকল্পনা বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের ইঙ্গিত দিচ্ছে:
১. রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা: বিগত সরকারের সমালোচনা কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং এটি জনস্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। টিকাদান কর্মসূচির মতো সংবেদনশীল জায়গায় গাফিলতির বিচার হওয়া প্রয়োজন—এই বার্তাটি প্রধানমন্ত্রী কঠোরভাবে দিয়েছেন।
২. এনএইচএস মডেল ও বাস্তবতা: বাংলাদেশে এনএইচএস মডেল কার্যকর করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে যদি জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ এবং ই-হেলথ কার্ড সফলভাবে চালু করা যায়, তবে এটি দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সেরা স্বাস্থ্যব্যবস্থা হিসেবে গড়ে উঠবে।
৩. তৃণমূলকে গুরুত্ব: উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে এই সম্মেলন প্রমাণ করে যে, সরকার শহরের চেয়ে তৃণমূলের চিকিৎসাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। ৮০ শতাংশ নারী নিয়োগের পরিকল্পনা গ্রামীণ মায়েদের চিকিৎসা ভীতি দূর করতে সহায়ক হবে।
৪. ডিজিটালাইজেশন: ই-হেলথ কার্ড দুর্নীতি রোধে ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গেম-চেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্বাস্থ্যসেবাকে ‘সেবা’ নয় বরং ‘অধিকার’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আশার সঞ্চার করেছে। ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’ নীতিতে অটল থেকে সরকার যদি এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে বাংলাদেশ একটি সুস্থ ও সবল জাতি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে মাথা তুলে দাঁড়াবে।
আরও পড়ুন: শান্তির পথে মধ্যপ্রাচ্য? হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ও ট্রাম্প-ইরান ঐতিহাসিক সমঝোতার ইঙ্গিত
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন