সত্যকথা ডেস্ক
মোতায়েন হচ্ছে বিশেষায়িত ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত দক্ষ ও বিশেষায়িত ‘৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন’-এর কয়েক হাজার সদস্যকে জরুরি ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। কৌশলগত এবং নিরাপত্তা জনিত কারণে এই সেনাদের ঠিক কোন দেশে বা কোন সামরিক ঘাঁটিতে রাখা হবে, তা গোপন রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের সঙ্গে চলমান ছায়াযুদ্ধ এবং সম্ভাব্য সরাসরি সংঘাত মোকাবিলায় দ্রুত সাড়া দিতেই এই ‘র্যাপিড রেসপন্স ফোর্স’ নামানো হচ্ছে।
এদিকে মার্কিন রাজনৈতিক পত্রিকা ‘দ্য হিল’ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ আগেই সান ডিয়াগো থেকে রওনা দিয়েছে উভচর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস বক্সার’। এই জাহাজে ২,২০০ মেরিন সেনা নিয়ে গঠিত ১১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট (এমইইউ) রয়েছে। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগেই জাপান থেকে ২,২০০ নৌসেনা ও নাবিক নিয়ে ৩১তম এমইইউ মধ্যপ্রাচ্যের পথে অগ্রসর হয়েছে। অর্থাৎ কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে বিশাল এক সামরিক বহর পারস্য উপসাগরের দিকে এগোচ্ছে।
লক্ষ্য কি কেবল হরমুজ প্রণালি?
রয়টার্স জানায়, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও তেল ট্যাংকারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মরিয়া ওয়াশিংটন। তবে কেবল সমুদ্রপথ নয়, অভিযানের পরিধি বাড়াতে ইরানের উপকূলীয় এলাকায় সরাসরি মার্কিন সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না কর্মকর্তারা।
সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ আলোচনাটি হচ্ছে ইরানের ‘খারক দ্বীপ’ নিয়ে। পারস্য উপসাগরের এই দ্বীপটি ইরানের অর্থনীতির লাইফলাইন, কারণ দেশটির মোট অশোধিত তেলের ৯০ শতাংশ এখান থেকেই রপ্তানি হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে এই দ্বীপে সেনা অভিযান বা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, খারক দ্বীপে আক্রমণ করলে ইরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ব্যবহার করে ভয়াবহ পাল্টা আঘাত হানতে পারে, যা পুরো অঞ্চলকে একটি মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে।
ট্রাম্পের রহস্যময় অবস্থান
সেনা মোতায়েনের খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “আমি কোথাও কোনো সেনা পাঠাচ্ছি না। তবে আমি যদি তা করিও, সেটি আমি সাংবাদিকদের বলব না।” ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী অবস্থান—একদিকে আলোচনার প্রস্তাব এবং অন্যদিকে তলে তলে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি—তেহরানকে আরও সন্দিহান করে তুলেছে। পেন্টাগন এবং হোয়াইট হাউস বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও সামরিক প্রস্তুতির চিত্রটি এখন স্পষ্ট।
মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান পরিস্থিতিকে বলা যেতে পারে ‘শান্তির আবরণে যুদ্ধের প্রস্তুতি’। যুক্তরাষ্ট্র যে পদ্ধতিতে সেনা মোতায়েন করছে, তা মূলত একটি ‘অ펜সিভ ডিফেন্স’ বা আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা কৌশল। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নাম করে ইরানের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র খারক দ্বীপকে লক্ষ্যবস্তু করা মূলত ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার একটি কৌশল।
তবে মনে রাখতে হবে, ইরান কোনো ছোট দেশ নয়। তাদের ড্রোন প্রযুক্তি এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোর জন্য হুমকি। এই মুহূর্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন মানে হলো বারুদের বাক্সে আগুন দেওয়ার মতো অবস্থা। যদি আলোচনার পথ খোলা রাখতে হয়, তবে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের এই ধারা কমাতে হবে। অন্যথায়, ছোট কোনো ভুল বোঝাবুঝি থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ বিশ্ব অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিতে পারে। বিশেষ করে তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হবে, তার প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপরও।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন