ব্রেন্ডন কারের হুঁশিয়ারি:
এফসিসি প্রধান তার পোস্টে স্পষ্ট করে বলেন, "ইরান যুদ্ধ নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে গুজব ও বিকৃত খবর প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সম্প্রচারমাধ্যমগুলোকে অবশ্যই জনস্বার্থে কাজ করতে হবে, অন্যথায় তাদের লাইসেন্স হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, যেসব মাধ্যম ইতিমধ্যে 'ভুয়া খবর' প্রচার করছে, তাদের লাইসেন্স নবায়নের আগে নিজেদের সংশোধন করার শেষ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া:
ব্রেন্ডন কারের এই মন্তব্যের পরপরই মার্কিন রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এই হুঁশিয়ারিকে 'স্পষ্টতই সংবিধানবিরোধী' এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাট রাজনীতিকদের দাবি, যুদ্ধের নেতিবাচক দিক আড়াল করতেই এই সেন্সরশিপের ভয় দেখানো হচ্ছে।
হাওয়াইয়ের সিনেটর ব্রায়ান শ্যাটজ এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "এই বার্তা মূলত সংবাদমাধ্যমকে বলে দেওয়ার চেষ্টা যে যুদ্ধ কীভাবে কাভার করতে হবে। ইতিবাচক কভারেজ না দিলে লাইসেন্স মিলবে না—এমন হুমকি গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।"
বিতর্কিত অতীত:
উল্লেখ্য, ব্রেন্ডন কার এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসনের এজেন্ডা বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য সমালোচিত হয়েছিলেন। গত বছর কমেডিয়ান জিমি কিমেলের শো-তে প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করায় তিনি এবিসি (ABC) চ্যানেলকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সংবিধানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে (First Amendment) সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হলেও, বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন 'জাতীয় নিরাপত্তা' ও 'জনস্বার্থ' শব্দগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। লাইসেন্স বাতিলের এই হুমকি কেবল মার্কিন মিডিয়া নয়, বরং বিশ্বজুড়ে মুক্ত সাংবাদিকতার ওপর একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করবে। এটি মূলত একটি 'ইনফরমেশন কন্ট্রোল' কৌশল, যা যুদ্ধের ময়দানের চেয়েও সংবাদ কক্ষকে বেশি নিয়ন্ত্রণ করতে চায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন