রণক্ষেত্রে বাগদাদ দূতাবাস:
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ছোড়া মিসাইলগুলো নিখুঁত নিশানায় মার্কিন দূতাবাসের ভেতরে আঘাত হানে। হামলায় দূতাবাসের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense System) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি দূতাবাসের অভ্যন্তরীণ হেলিপ্যাডে আঘাত হেনেছে। এটি চলতি সপ্তাহে বাগদাদ দূতাবাসে দ্বিতীয় বড় ধরনের হামলার ঘটনা।
হামলার ব্যাপ্তি ও ক্ষয়ক্ষতি:
ইরানের এই অভিযান কেবল বাগদাদেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রতিবেদনের তথ্যমতে:
সংযুক্ত আরব আমিরাত: দুবাইয়ের আর্থিক কেন্দ্রে মার্কিন কনস্যুলেট লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
জর্ডান: স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, জর্ডানের মুয়াফিক সালতি বিমান ঘাঁটিতে থাকা আমেরিকার অত্যাধুনিক 'থাড' (THAAD) মিসাইল সিস্টেমের একটি রাডার ইউনিট ইরানি হামলায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
আঞ্চলিক প্রভাব: সৌদি আরব, লেবানন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন দূতাবাসগুলোও হামলার হুমকিতে থাকায় সেগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
কূটনীতি নয়, শক্তির ভাষায় জবাব:
সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান এখন আর প্রক্সি বা পরোক্ষ যুদ্ধের পথে নেই। তারা সরাসরি সামরিক শক্তি প্রদর্শনকেই বেছে নিয়েছে। ওয়াশিংটন গত শুক্রবারই ইরাকের জন্য 'লেভেল ফোর' সতর্কতা জারি করেছিল, কিন্তু সরাসরি ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পেন্টাগনকে রীতিমতো চমকে দিয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে এখন মার্কিন স্থাপনাগুলোই ইরানের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের এই সরাসরি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। এতদিন ইরান তার ছায়া বাহিনী বা প্রক্সি গ্রুপগুলোর মাধ্যমে আক্রমণ করলেও, এবার সরাসরি তেহরান থেকে মিসাইল ছোড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় কৌশলগত পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। থাড (THAAD) রাডার ধ্বংস হওয়া প্রমাণ করে যে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও এখন আর নিশ্ছিদ্র নয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন