ভিডিওর সেই 'অসংগতি':
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ নিয়ে দেওয়া ওই ভিডিও বার্তায় ব্যবহারকারীরা একটি বিশেষ অসংগতি লক্ষ করেন। অনেকের দাবি, এটি 'ক্ল্যাসিক এআই ফিঙ্গার গ্লিচ'। যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল রাজনৈতিক বিশ্লেষক ক্যান্ডাস ওয়েনস প্রশ্ন তুলেছেন, "বিবি (নেতানিয়াহু) কোথায়? কেন তাঁর অফিস থেকে ভুয়া এআই ভিডিও প্রকাশ করে আবার ডিলিট করা হচ্ছে?"
মৃত্যুর গুজব ও ফ্যাক্টচেক:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ দাবি করছেন, নেতানিয়াহু আসলে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানি হামলায় মারা গেছেন। তবে এক্স-এর (সাবেক টুইটার) এআই চ্যাটবট 'গ্রোক' এই দাবিগুলোকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। গ্রোক জানায়, "নেতানিয়াহুর প্রতি হাতে পাঁচটি করেই আঙুল আছে। ভিডিওতে পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল এবং আলোর কারণে একটি 'অপটিক্যাল ইলিউশন' বা দৃষ্টিবিভ্রম তৈরি হয়েছে।"
ইয়ার নেতানিয়াহুর নীরবতা:
নেতানিয়াহুর ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহু সচরাচর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় থাকলেও গত ৯ মার্চের পর থেকে তাঁর কোনো নতুন পোস্ট দেখা যায়নি। এটি জল্পনার আগুনে আরও ঘি ঢেলেছে। তবে স্নোপস এবং টাইমস অব ইসরায়েল-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্যাক্টচেক সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে যে, নেতানিয়াহুর মৃত্যুর খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং তিনি বর্তমানে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।
মার্কিন অর্থমন্ত্রীকে ঘিরে রহস্য:
একই সময়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের একটি সংবাদ সম্মেলন থেকে হঠাৎ চলে যাওয়া এবং ফিরে এসে অস্বাভাবিক আচরণ করার ঘটনাটি নিয়ে নতুন গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এর পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের কোনো বড় খবর থাকতে পারে, তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে 'ডিপফেক' বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর একটি হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেতানিয়াহুর ভিডিওর ক্ষেত্রে কারিগরি ত্রুটির চেয়ে 'দৃষ্টিবিভ্রম' হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে শীর্ষ নেতাদের দীর্ঘ অনুপস্থিতি বা অস্পষ্ট ভিডিও বার্তা ডিজিটাল যুগে বড় ধরণের 'ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার' বা তথ্যযুদ্ধের জন্ম দেয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন