সত্যকথা রিপোর্ট
জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা: বীরত্বের স্বীকৃতি
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানে যারা স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বীরত্বের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন, তাদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের নৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। ছাত্র-জনতাকে দায়মুক্তি দেওয়ার যে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছিল, সংসদীয় বিশেষ কমিটি তার সঙ্গে পূর্ণ একমত পোষণ করেছে।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের সরকার ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করবে। এই দায়মুক্তি বা ইনডেমনিটি মূলত আন্দোলনের সময় সংঘটিত কোনো ঘটনার জন্য ছাত্র-জনতাকে যেন ভবিষ্যতে কোনো আইনি হয়রানির শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ও জন-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই সরকার প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
১৩৩ অধ্যাদেশ ও সাংবিধানিক যাচাই
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত জনস্বার্থে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। সংসদীয় বিশেষ কমিটির প্রধান কাজ হলো এই অধ্যাদেশগুলোকে পর্যালোচনার মাধ্যমে স্থায়ী আইনে রূপান্তরের সুপারিশ করা। বৈঠকে উপস্থিত জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমির মো. মুজিবুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, “জুলাইয়ের জন-আকাঙ্ক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলোকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব। তবে কোনো অধ্যাদেশ যদি সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক বা জনস্বার্থ পরিপন্থি হয়, তবে সে বিষয়ে আমরা জোরালো মতামত তুলে ধরব।”
বিতর্কিত নামকরণ পরিবর্তনের তোড়জোড়
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও স্থাপনার যে রাজনৈতিক নামকরণ করা হয়েছিল, তা পরিবর্তনের বিষয়টিও এদিনের আলোচনার অন্যতম প্রধান অ্যাজেন্ডা ছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জনগণের দাবির মুখে বিতর্কিত সব নাম পরিবর্তনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ‘দায়মুক্তি’ অধ্যাদেশকে সংসদীয় কমিটির সমর্থন দেওয়া একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও সাহসী পদক্ষেপ। যেকোনো বিপ্লব বা গণঅভ্যুত্থানের পর বিপ্লবীদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া না হলে ভবিষ্যতে প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতির কারণে তারা বিপদে পড়তে পারেন। এই দায়মুক্তি মূলত কোনো অপরাধকে আড়াল করা নয়, বরং একটি বৃহৎ জনবিস্ফোরণকে আইনি বৈধতা প্রদান করা।
তবে চ্যালেঞ্জটি হলো বাকি ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে। ২ এপ্রিলের মধ্যে এই বিপুল সংখ্যক অধ্যাদেশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা সংসদীয় কমিটির জন্য সময়ের একটি বড় পরীক্ষা। বিশেষ করে গত ১৫ বছরের রাজনৈতিক নামকরণের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে রাষ্ট্রকে একটি নিরপেক্ষ কাঠামোর ওপর দাঁড় করানোই এখন বড় দাবি। যদি কমিটি জন-আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে এই অধ্যাদেশগুলোকে সুসংহত করতে পারে, তবেই জুলাই অভ্যুত্থানের প্রকৃত সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এই বিশেষ কমিটির ভূমিকা ইতিহাসের পাতায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন