ফুটপাত যেন অঘোষিত শোরুম ও রান্নাঘর
ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় খাবারের রেস্টুরেন্ট থেকে শুরু করে মোটরগাড়ি মেরামতের ওয়ার্কশপ, ওয়েল্ডিং শপ, পোশাক ও আসবাবপত্রের দোকানগুলো তাদের নির্ধারিত সীমানার বাইরে ফুটপাত ও সড়কের অংশ দখল করে কার্যক্রম চালাচ্ছে।
সরেজমিনে এবং ডিএমপির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক রেস্টুরেন্ট ফুটপাতের ওপর বড় বড় রান্নার চুলা, বার্নার, হাঁড়িপাতিল ও গ্রিল মেশিন বসিয়ে ব্যবসা করছে। অন্যদিকে, মোটর ওয়ার্কশপগুলো টায়ার ও ভারী যন্ত্রপাতি সড়কে রেখে কাজ করছে, যা পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। এমনকি কোথাও কোথাও রাস্তার এক লেন পর্যন্ত দখল করে গাড়ি মেরামত করা হচ্ছে। এছাড়া বড় বড় আসবাবপত্রের দোকান ও শোরুমগুলো তাদের পণ্য প্রদর্শনের জন্য ফুটপাতকে স্থায়ী শোরুম হিসেবে ব্যবহার করছে।
নিরাপত্তা ঝুঁকি ও যানজটের মূল কারণ
ডিএমপি উল্লেখ করেছে, ফুটপাত দখল হওয়ার ফলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়কে নেমে চলাচল করছেন। এতে একদিকে যেমন সড়কে যানজট তীব্র হচ্ছে, অন্যদিকে পথচারীদের জীবনের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুদের জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক। সড়কের এক লেন দখল করে ব্যবসা করায় রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করা পুলিশের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১ এপ্রিল থেকে ‘জিরো টলারেন্স’
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের অবিলম্বে ফুটপাত ও রাস্তা থেকে তাদের মালামাল সরিয়ে নিতে হবে। নির্ধারিত সময় অর্থাৎ ৩১ মার্চের মধ্যে এই নির্দেশ পালন না করলে ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ থেকে ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সামারি ট্রায়াল (সংক্ষিপ্ত বিচার) ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে শুধু জরিমানা নয়, ক্ষেত্রবিশেষে কারাদণ্ড এবং ফুটপাতে রাখা সকল মালামাল বাজেয়াপ্ত করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
ঢাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করার এই উদ্যোগ নতুন কিছু নয়, তবে ডিএমপির এবারের আল্টিমেটাম এবং ‘সামারি ট্রায়াল’-এর ঘোষণা অত্যন্ত সময়োপযোগী। রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশন মাঝেমধ্যেই উচ্ছেদ অভিযান চালায়, কিন্তু অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পরেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় ফুটপাতগুলো। এর প্রধান কারণ স্থায়ী ব্যবস্থার অভাব এবং রাজনৈতিক বা স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকা হকার ও দোকানদাররা।
ডিএমপি এবার সরাসরি দোকান ও শোরুম মালিকদের লক্ষ্যবস্তু করেছে, যা প্রশংসনীয়। কারণ বড় শোরুমগুলো যখন ফুটপাত দখল করে, তখন সাধারণ হকাররাও সেখানে বসার সাহস পায়। তবে এই অভিযান সফল করতে হলে কেবল মোবাইল কোর্ট যথেষ্ট নয়, নিয়মিত নজরদারি এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং প্রয়োজন। একই সঙ্গে পথচারীদের জন্য নিরাপদ ফুটপাত নিশ্চিত করা গেলে ঢাকার যানজট অনেকাংশে কমে আসবে। পুলিশের এই উদ্যোগ যেন কেবল ‘মৌসুমী অভিযানে’ সীমাবদ্ধ না থেকে একটি দীর্ঘমেয়াদী অভ্যাসে পরিণত হয়, এটাই নগরবাসীর প্রত্যাশা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন