কূটনীতির পথ বন্ধ, লক্ষ্য এখন ‘অর্থনৈতিক চাপ’
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা কামাল খারাজি আজ সোমবার তেহরানে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “এই যুদ্ধ এখন কেবল ‘অর্থনৈতিক আঘাতের’ মাধ্যমেই শেষ হওয়া সম্ভব।” খারাজির মতে, যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে যে অর্থনৈতিক চাপ ও জ্বালানি সংকট তৈরি হচ্ছে, সেটি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাবে যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং খোদ যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাত থামাতে বাধ্য হবে।
উপসাগরীয় দেশগুলোকে তেহরানের কড়া বার্তা
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর উচিত হবে ওয়াশিংটনকে যুদ্ধ বন্ধে চাপ দেওয়া। কামাল খারাজি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এই যুদ্ধ অন্যদের ওপর প্রচুর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে—তা সে মুদ্রাস্ফীতিই হোক বা জ্বালানির অভাব। যুদ্ধ চলতে থাকলে এই চাপ আরও বাড়বে এবং তখন অন্যদের হস্তক্ষেপ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।” তেহরান মনে করে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের এই চাপই শেষ পর্যন্ত তাদের বিজয়ের হাতিয়ার হবে।
১০০ ডলার ছাড়াল তেলের দাম, টালমাটাল বিশ্ববাজার
যুদ্ধের প্রভাবে আজ সোমবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় জ্বালানি বাণিজ্যে ধস নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি ও শেয়ার বাজারে এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, যা একটি বড় ধরনের বৈশ্বিক মন্দার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সংক্ষিপ্ত চিত্র:
বর্তমানে যুদ্ধ ১০ম দিনে গড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ইতিমধ্যে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। তেহরান বর্তমানে সব ধরণের কূটনৈতিক আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। হরমুজ প্রণালি ও পার্শ্ববর্তী উপসাগরীয় দেশগুলো এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
যুদ্ধের নতুন অস্ত্র ‘জ্বালানি ব্ল্যাকমেইল’?
সামরিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এবার গতানুগতিক যুদ্ধের চেয়ে 'ইকোনমিক ওয়ারফেয়ার' বা অর্থনৈতিক যুদ্ধকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তেহরান খুব ভালো করেই জানে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভ্যন্তরীণ জনপ্রিয়তার একটি বড় অংশ নির্ভর করে মার্কিন অর্থনীতি এবং জ্বালানি তেলের স্থিতিশীল দামের ওপর।
যদি ইরান হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখতে পারে কিংবা উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল স্থাপনায় পরোক্ষ হামলা চালিয়ে তেলের সরবরাহ ব্যাহত করতে পারে, তবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১৫০ থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আমেরিকাসহ ইউরোপের দেশগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি আকাশচুম্বী হবে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর প্রচণ্ড রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। মূলত অস্ত্র দিয়ে ট্রাম্পকে রোখার চেয়ে, পকেট বা অর্থনীতির ওপর আঘাত করে তাকে পিছু হটতে বাধ্য করাই এখন তেহরানের মূল কৌশল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন