ভাতার পরিমাণ ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রদান
এই কর্মসূচির আওতায় তালিকাভুক্ত প্রতিটি দরিদ্র পরিবারকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে সরকার। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে এই ভাতার টাকা কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরাসরি উপকারভোগীর মোবাইল ওয়ালেট (বিকাশ, নগদ ইত্যাদি) অথবা ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে যাবে। এর ফলে ভাতা গ্রহীতারা ঘরে বসেই তাদের অর্থ বুঝে পাবেন।
পরীক্ষামূলক প্রকল্প ও এলাকা নির্বাচন
প্রাথমিক পর্যায়ে প্রকল্পটি পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে চালু করা হয়েছে। প্রকল্পটি স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনার জন্য জেলা, উপজেলা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে সরকারি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বিশেষ তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নিবিড় যাচাই-বাছাই ও স্বচ্ছ তালিকা
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে নিবিড় যাচাই-বাছাইয়ের পর ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। চূড়ান্ত তালিকায় ঠাঁই দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার অত্যন্ত আধুনিক পদ্ধতি অবলম্বন করেছে।
তালিকাভুক্তির পরিসংখ্যান:
প্রাথমিক ডাটাবেজ: ৫১, ৮০৫টি পরিবার
সঠিক তথ্যপ্রাপ্ত পরিবার: ৪৭, ৭৭৭টি
চূড়ান্ত সুবিধাভোগী: ৩৭, ৫৬৭টি পরিবার
ডাবল ডিপিং বা একই ব্যক্তির একাধিক সরকারি ভাতা গ্রহণ রোধ এবং সরকারি চাকরিজীবী বা পেনশনভোগীদের বাদ দেওয়ার পর এই ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
অগ্রাধিকার পাচ্ছেন ‘নারী প্রধান’ পরিবার
এই প্রকল্পের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে কেবল ‘নারী প্রধান’ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সমাজের প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় বলেন, “সরাসরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভাতা প্রদানের ফলে মাঝপথে অর্থ লোপাটের কোনো সুযোগ থাকবে না এবং প্রকৃত দুস্থরাই এই সুবিধা পাবেন।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
কড়াইল বস্তির মতো জনবহুল এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। সরকার আশা করছে, পরীক্ষামূলক এই পর্যায় সফলভাবে শেষ হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সকল যোগ্য দরিদ্র পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর আওতায় নিয়ে আসা হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন