চলতি বছরের (২০২৬) সদকাতুল ফিতর বা ফিতরার হার নির্ধারণ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এ বছর জনপ্রতি ফিতরার সর্বনিম্ন হার ১১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ হার ২ হাজার ৮০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ শাখা থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফিতরার হার ও হিসাব পদ্ধতি
ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী, পাঁচটি প্রধান খাদ্যপণ্যের (আটা, যব, কিশমিশ, খেজুর ও পনির) বাজারমূল্য বিবেচনা করে ফিতরার এই হার নির্ধারণ করা হয়। গমের ক্ষেত্রে ‘অর্ধ সা’ (১ কেজি ৬৫০ গ্রাম) এবং বাকি চারটি পণ্যের ক্ষেত্রে ‘এক সা’ (৩ কেজি ৩০০ গ্রাম) হলো পরিমাপের মানদণ্ড।
২০২৬ সালের ফিতরার সংক্ষিপ্ত তালিকা:
ফিতরা কার ওপর ওয়াজিব?
যাদের কাছে ঈদের দিন সুবহে সাদিকের সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ (সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা বা তার সমমূল্যের নগদ অর্থ) থাকবে, তাদের ওপর সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। এমনকি নাবালক সন্তান বা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির যদি নিজস্ব সম্পদ থাকে, তবে অভিভাবককে তাদের পক্ষ থেকেও ফিতরা দিতে হবে।
কাকে দেবেন এবং কখন দেবেন?
খাত: যাকাত পাওয়ার যোগ্য দুস্থ, দরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তিদের ফিতরা দেওয়া যাবে। তবে নিজের বাবা-মা, দাদা-দাদি বা ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনিকে ফিতরা দেওয়া যাবে না। স্বামী-স্ত্রীও একে অপরকে ফিতরা দিতে পারবেন না।
সময়: ঈদুল ফিতরের নামাজের উদ্দেশ্যে ঈদগাহে যাওয়ার আগেই ফিতরা আদায় করা উত্তম। তবে দরিদ্ররা যেন ঈদের কেনাকাটা করতে পারে, সেজন্য রমজানের শেষ দিকে দু-তিন দিন আগেই তা পৌঁছে দেওয়া বেশি সওয়াবের কাজ।
বিশেষ মাসআলা ও জরুরি বিষয়সমূহ
১. মূল্য দ্বারা আদায়: হাদিসে বর্ণিত দ্রব্যগুলোর পরিবর্তে সমপরিমাণ বাজারমূল্য বা টাকা দিয়েও ফিতরা আদায় করা জায়েজ। চাল দিয়ে দিতে চাইলে গমের ক্ষেত্রে ১ কেজি ৬৩৫ গ্রাম বা যব/খেজুরের ক্ষেত্রে ৩ কেজি ২৭০ গ্রামের মূল্যের সমপরিমাণ চাল দিতে হবে।
২. প্রবাসীদের ফিতরা: বিদেশে অবস্থানরত কেউ দেশে ফিতরা দিতে চাইলে, তাকে ওই দেশের (যেখানে অবস্থান করছেন) নির্ধারিত ন্যূনতম হার অনুযায়ী টাকা পাঠাতে হবে।
৩. অমুসলিমদের ক্ষেত্রে: ফিতরা কেবল দরিদ্র মুসলিমদের হক। অমুসলিমদের নফল সদকা দেওয়া গেলেও ফিতরার টাকা দেওয়া যাবে না।
সামর্থ্য অনুযায়ী ফিতরা দিন
ইসলামিক ফাউন্ডেশন সর্বনিম্ন হার ১১০ টাকা নির্ধারণ করলেও বিত্তশালীদের উচিত তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী পনির বা উন্নত মানের খেজুরের হিসাব ধরে ফিতরা দেওয়া। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, "কেউ যদি স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো পুণ্যের কাজ করে এবং নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বাড়িয়ে দেয়, তবে তা তার জন্য শ্রেয়।" (সুরা বাকারা: ১৮৪)।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন