চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণা ও প্রস্তুতি
শুক্রবার সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চাঁদ দেখার খবর নিশ্চিত করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার চাঁদ দেখা না যাওয়ায় ৩০ রোজা পূর্ণ করে শনিবার ঈদ পালনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত থাকলেও শুক্রবার চাঁদ দেখার মাধ্যমে তা চূড়ান্ত উৎসবে রূপ নেয়।
জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত
রাজধানীতে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররমের খতীব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই জামাতে সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে নামাজ আদায় করবেন। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররমে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক টেলিভিশন বার্তায় রমজানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়াও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই ঈদকে ‘ফ্যাসিবাদ-উত্তর দ্বিতীয় ঈদ’ হিসেবে অভিহিত করে শহীদ পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
শোলকিয়ায় বিজিবি মোতায়েন ও নিরাপত্তা
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ১৯৯তম ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েনসহ সিসিটিভি নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। মুসল্লিদের ছাতা ও জায়নামাজ ব্যতীত অন্য কিছু বহন না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চাঁদপুরে আগাম ঈদ উদযাপন
দেশের মূল ধারার একদিন আগে আজ শুক্রবার (২০ মার্চ) চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জসহ অর্ধশতাধিক গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। ১৯২৮ সাল থেকে সাদ্রা দরবার শরীফের অনুসারীরা মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে এই আগাম ঈদ পালন করে আসছেন। তারা আজ ৩০ রোজা পূর্ণ করে এই উৎসব পালন করেন।
এবারের ঈদুল ফিতর বাংলাদেশের জন্য এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এটি দ্বিতীয় ঈদ, যেখানে মানুষ মুক্ত পরিবেশে উৎসব পালনের সুযোগ পাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে যে ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশারই প্রতিফলন। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ঈদ উদযাপন কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমাজের সচ্ছল ব্যক্তিদের উচিত হবে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ঈদের আনন্দকে সর্বজনীন করা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন