সত্যকথা ডেস্ক
প্রথম বার্তায় কড়া হুঁশিয়ারি
তেহরানে চলতি সপ্তাহে একের পর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের গুপ্তহত্যার ঘটনায় শোক প্রকাশ করে মোজতবা খামেনি বলেন, “শত্রুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে না; বরং দেশের জনগণের নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। আমাদের নাগরিকদের সুরক্ষায় অভ্যন্তরীণ ও বহিঃশত্রুদের নিরাপত্তা অস্বীকার করা হতে পারে।” বিশ্লেষকরা তার এই বক্তব্যকে চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে একটি নতুন এবং আরও আক্রমণাত্মক সমরনীতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
নিরাপত্তা কাঠামোয় বড় ধাক্কা
গত মঙ্গলবার রাতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খাতিব নিহত হন। এর মাত্র একদিন আগে দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরপর এই দুটি বড় হত্যাকাণ্ড ইরানের দীর্ঘদিনের সুসংগঠিত নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কাঠামোকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের উদ্দেশে পাঠানো বার্তায় খামেনি নিহত ইসমাইল খাতিবকে একজন 'নিবেদিতপ্রাণ ও নিরলস কর্মী' হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তার এই শূন্যতা পূরণে গোয়েন্দা সংস্থাকে দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে কাজ করতে হবে।
নেতৃত্বের শারীরিক অবস্থা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপট
ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতের জেরে ইরান ইতোমধ্যে তাদের বহু সামরিক কমান্ডার ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছে। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি নিশ্চিত করেছেন যে, সাম্প্রতিক হামলায় মোজতবা খামেনি সামান্য আহত হলেও তিনি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় সক্রিয় রয়েছেন।
মোজতবা খামেনির এই প্রথম বার্তাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণত ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব সরাসরি ‘নিরাপত্তা অস্বীকার’ করার মতো শব্দ ব্যবহার করেন না। এটি মূলত ইসরায়েলকে দেওয়া একটি পাল্টা প্রচ্ছন্ন হুমকি, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান এখন থেকে কেবল রক্ষণাত্মক নয়, বরং শত্রুর সীমানায় ঢুকে আক্রমণাত্মক অপারেশন চালাতে পারে। তবে পরপর শীর্ষ কর্মকর্তাদের হারানো ইরানের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নতুন নেতার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে নিজের গোয়েন্দা ব্যবস্থার ভেতরে থাকা ফাটলগুলো মেরামত করা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন