সকাল সাড়ে ৮টায় রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেকের ইমামতিতে অনুষ্ঠিত এই জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে কাতারবন্দি হয়ে নামাজ আদায় করেন।
নামাজ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। প্রধান জামাতে মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, রাজনৈতিক নেতা এবং বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকসহ প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি অংশ নেন। নারীদের জন্য ছিল পৃথক নামাজের ব্যবস্থা ও কড়া নিরাপত্তা।
শোলাকিয়ায় ৫ লাখ মুসল্লির নজিরবিহীন উপস্থিতি
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে আজ ১৯৯তম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এবারের জামাতে রেকর্ডসংখ্যক—প্রায় ৫ লাখেরও বেশি মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। মাঠ ছাপিয়ে আশপাশের সড়ক, বাড়ির ছাদ এমনকি নরসুন্দা নদীর তীরে দাঁড়িয়েও মানুষ নামাজ আদায় করেন। ৫টি শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে জামাতের সংকেত দেওয়ার ঐতিহ্যবাহী প্রথা এবারও পালিত হয়েছে। নামাজ শেষে ফিলিস্তিনের মুসলমানদের মুক্তি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
যমুনায় তারেক রহমানের ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়
২০০৭ সালের পর দীর্ঘ ১৯ বছরের নির্বাসন শেষে এটিই তারেক রহমানের প্রথম ঈদ উদযাপন। সকাল ১০টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তিনি কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ এবং দলীয় নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তাকে একনজর দেখতে এবং ঈদ শুভেচ্ছা জানাতে ভোর থেকেই যমুনা অভিমুখে সাধারণ মানুষের ঢল নামে, যা এক পর্যায়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
সারাদেশে উৎসবের আমেজ
রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে সকাল ৭টা থেকে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেটসহ সারাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সুশৃঙ্খলভাবে ঈদ জামাত সম্পন্ন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হাসপাতাল, এতিমখানা ও বৃদ্ধাশ্রমগুলোতে পরিবেশন করা হয়েছে উন্নতমানের খাবার।
এবারের ঈদুল ফিতর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এক অনন্য সম্প্রীতির বার্তা বয়ে এনেছে। দীর্ঘ ১৯ বছর পর তারেক রহমানের অংশগ্রহণ সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করেছে। শোলাকিয়ার বিশাল জনসমাবেশ প্রমাণ করে যে, ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি মানুষ এখন একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে পেয়েছে। তবে উৎসবের এই আনন্দের মাঝে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্নআয়ের মানুষেরা যেন পিছিয়ে না থাকে, সেদিকে সমাজের বিত্তবানদের লক্ষ্য রাখা জরুরি। এই ঈদের শিক্ষা হোক—একত্রে চলা, বৈষম্যহীন সমাজ গড়া এবং পারষ্পরিক সহমর্মিতা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন