ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো জাতির উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক রেকর্ড করা ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব মার্কিন ঘাঁটি গুটিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় এসব ঘাঁটিতে ধারাবাহিক হামলা অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।
মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি ও প্রতিবেশী নীতি
গত রোববার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই মোজতবা খামেনির প্রথম আনুষ্ঠানিক ভাষণ। ভাষণে তিনি পরিষ্কার করেন যে, ইরান তার প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে শত্রুতা চায় না। তিনি বলেন, "ইরান প্রতিবেশীদের সঙ্গে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী। আমাদের লক্ষ্যবস্তু কেবল মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। এই অঞ্চলে অবস্থিত সব মার্কিন ঘাঁটি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, নতুবা আমাদের হামলা চলতেই থাকবে।"
হরমুজ প্রণালি ও শহীদদের রক্তের বদলা
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে নতুন এই নেতা ঘোষণা করেন যে, শত্রুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ 'হরমুজ প্রণালি' বন্ধ রাখা হবে। এছাড়া তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ইরান তাদের শহীদদের রক্তের বদলা নিতে বদ্ধপরিকর। সম্প্রতি অঞ্চলে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, তেহরান কেবল মার্কিন সামরিক সম্পদকেই লক্ষ্যবস্তু করেছে।
প্রতিরোধ যোদ্ধাদের প্রশংসা ও আঞ্চলিক সংহতি
ইরানের সামরিক বাহিনীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে মোজতবা খামেনি বলেন, "আমাদের সাহসী যোদ্ধারা এই কঠিন সময়ে দুর্দান্ত কাজ করছেন।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী এবং ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরানকে সহায়তা করতে প্রস্তুত এবং তারা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করবে। এর মাধ্যমে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের 'অক্ষশক্তি' বা প্রক্সি গ্রুপগুলোর সংহতির জানান দিলেন।
জনকল্যাণমূলক ঘোষণা
ভাষণের শেষভাগে দেশবাসীর জন্য কিছু বিশেষ সুবিধার কথা জানান তিনি। যুদ্ধে আহতদের জন্য বিনামূল্যে সরকারি চিকিৎসা সেবা এবং চলমান পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন