স্পিকারের চেয়ার খালি রেখে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদের কার্য পরিচালনার জন্য প্রবীণ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সভাপতি হিসেবে প্রস্তাব করেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই প্রস্তাবে সমর্থন জানান। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সমর্থন দিলে সর্বসম্মতিক্রমে ড. মোশাররফ সভাপতির আসনে বসেন। উল্লেখ্য, ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেভাবে মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগিশকে সভাপতি করার নজির রেখেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই রীতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন ও শপথ
সভাপতির আহ্বানে স্পিকার পদে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাব করেন মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম এবং সমর্থন করেন রকিবুল ইসলাম। অন্যদিকে, ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নাম প্রস্তাব করেন রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং সমর্থন করেন আশরাফ উদ্দিন নিজান। অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তারা দুজনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। দুপুর ১২টার পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষণ: "প্রতিটি পরিবার হবে স্বনির্ভর"
সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে শুরুতেই ১৯৭১ থেকে ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, "আজ থেকে বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হলো। আমরা এই সংসদকে জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু বানাতে চাই।"
তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন সংগ্রামের কথা স্মরণ করে বলেন, দেশনেত্রী জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন, কখনও স্বৈরাচারের সাথে আপস করেননি। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, তার সরকারের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করে তোলা। তিনি দল-মত নির্বিশেষে একটি নিরাপদ ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্য: ইনসাফের দাবি
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণ করেন। স্পিকারকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, "আমরা স্পিকারের কাছে কোনো পক্ষপাতিত্ব চাই না, শুধু ইনসাফ বা ন্যায়বিচার চাই।" রসিকতা করে নিজেকে 'তরুণ সদস্য' আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণে এই সংসদকে কার্যকর করতে হবে। তিনি উচ্চকণ্ঠে 'উই ওয়ান্ট জাস্টিস' স্লোগান দিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন।
আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুতে শোকপ্রস্তাব
অধিবেশনের শুরুতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সংসদে শোকপ্রস্তাব গৃহীত হয়। তার ৮৬ বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন ও মোনাজাত করা হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন