শপথ গ্রহণের জন্য জোহরান মামদানী বেছে নিয়েছিলেন ১৯৪৫ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া ওল্ড সিটি হল সাবওয়ে স্টেশনটি। তার ট্রানজিশন টিমের মতে, এই স্টেশনটি নিউ ইয়র্কের সেই শ্রমজীবী মানুষের ঐতিহ্যের প্রতীক যারা প্রতিদিন শহরটিকে সচল রাখে। মধ্যরাতের এই ঘরোয়া অনুষ্ঠানের পর দুপুরে সিটি হলের সিঁড়িতে একটি বড় ধরণের জনসমাবেশে তিনি পুনরায় শপথ নেবেন। সেখানে তার রাজনৈতিক আদর্শ ও মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স তাকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন এবং কংগ্রেসওম্যান আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজ উদ্বোধনী বক্তব্য রাখবেন। এরপর ব্রডওয়ের ক্যানিয়ন অব হিরোস-এ একটি বর্ণাঢ্য গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।
উগান্ডার কাম্পালায় জন্মগ্রহণ করা জোহরান মামদানী বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মাহমুদ মামদানীর সন্তান। ১৯৯৯ সালে নিউ ইয়র্কে স্থায়ী হওয়া জোহরান ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। নিজেকে একজন ডেমোক্র্যাটিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া মামদানী তার নির্বাচনী প্রচারণায় জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন। তার ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিনা মূল্যে বাস পরিষেবা, বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত রাখা এবং সবার জন্য চাইল্ডকেয়ার নিশ্চিত করার মতো যুগান্তকারী সব পদক্ষেপ।
মেয়র হিসেবে মামদানীর সামনে এখন যেমন বিশাল জনসমর্থন রয়েছে, তেমনি রয়েছে বড় ধরণের প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল এই শহরের আবর্জনা ব্যবস্থাপনা ও সাবওয়ের দীর্ঘসূত্রতা দূর করার মতো মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে তাকে কঠোর পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে। তার প্রগতিশীল নীতিগুলো কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, সেদিকে এখন পুরো যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহল গভীর নজর রাখছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন