রাষ্ট্র সংস্কারের নানা তৎপরতা, মব কালচার, ভয়াবহ ভূমিকম্প এবং রাজনীতির শীর্ষ নেতৃত্বের পালাবদলের মতো নাটকীয় সব ঘটনার সাক্ষী হয়ে বিদায় নিল একটি বছর। নানা সংকটের আবর্তে থাকা দেশটিতে বুধবার মধ্যরাতে বর্ণিল আলোকচ্ছটায় সূচিত হলো খ্রিষ্টীয় ২০২৬ সাল। তবে এবার নতুন বছরের আগমন ঘটেছে এক বিষণ্ণ পরিবেশে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে চলা তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোকের মাঝেই ঢাকার আকাশে দেখা গেছে আতশবাজির ঝলকানি।
মঙ্গলবার ডিএমপির পক্ষ থেকে এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, রাষ্ট্রীয় শোক চলাকালীন ঢাকা মহানগর এলাকায় সব ধরনের আতশবাজি, পটকা, ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। জননিরাপত্তা ও শোকের গাম্ভীর্য রক্ষায় উন্মুক্ত স্থানে ডিজে পার্টি বা কোনো ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান না করার নির্দেশনাও ছিল পুলিশের। নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, যেখানে বহিরাগত ও যানবাহন প্রবেশে ছিল কঠোর কড়াকড়ি।
তবে প্রশাসনের এসব কঠোর বার্তা আর শোকের আবহ কোনো কিছুই নগরবাসীকে উৎসব থেকে বিরত রাখতে পারেনি। রাত ১২টা বাজার আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভেসে আসতে থাকে পটকার বিকট শব্দ। ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছোঁয়ার সাথে সাথেই আকাশের দখল নেয় রঙিন আতশবাজি। বিধিনিষেধ ভেঙে ফানুস উড়তে দেখা যায় অনেক এলাকায়, যদিও গত কয়েক বছরের তুলনায় ফানুসের সংখ্যা ছিল কিছুটা কম।
উৎসবের এই উন্মাদনা অনেকের জন্যই বয়ে এনেছে চরম ভোগান্তি। বিশেষ করে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন মুমূর্ষু রোগী, প্রবীণ নাগরিক ও শিশুদের জন্য এই বিকট শব্দ ছিল অসহনীয়। শব্দ ও বায়ুদূষণের হাত থেকে বাঁচতে অনেকেই জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে প্রতিকার চেয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। অতীতে পটকার শব্দে অসুস্থ হয়ে শিশুর মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতি হাতড়ে অনেকেই এই অনিয়ন্ত্রিত উদযাপনের সমালোচনা করেন। একদিকে রাষ্ট্রীয় শোকের নিস্তব্ধতা আর অন্যদিকে মাঝরাতের তীব্র শব্দদূষণ—এই দুই বৈপরীত্যের মধ্য দিয়েই শুরু হলো ২০২৬ সালের পথচলা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন