দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে নিজ মাতৃভূমিতে প্রত্যাবর্তন করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে বহনকারী উড়োজাহাজটি অবতরণ করলে সেখানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
সংবর্ধনা মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান দেশবাসীর উদ্দেশে এক তাৎপর্যপূর্ণ ভাষণ দেন। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন এবং তাকে বরণ করে নেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি স্মরণ করেন ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের। বিশেষ করে সাম্প্রতিক আন্দোলনে নিহত ওসমান হাদি ও অন্যান্যদের ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে একটি বৈষম্যহীন ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে হবে।
বক্তব্যে তিনি জাতীয় ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ধর্ম-বর্ণ, দল-মত ও পাহাড়ি-সমতল নির্বিশেষে সবার জন্য একটি নিরাপদ বাসভূমি গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। নারী, শিশু ও তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও কর্মসংস্থানমুখী রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন তুলে ধরেন তারেক রহমান। বিখ্যাত নাগরিক অধিকার নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য তার কাছে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি দেশবাসীর অকুণ্ঠ সহযোগিতা প্রার্থনা করেন।
উস্কানির মুখে ধৈর্য ধারণ এবং দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নেতা-কর্মীদের কঠোর নির্দেশ দেন তিনি। ষড়যন্ত্রকারীদের সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে তিনি তরুণ প্রজন্মকে আগামীর নেতৃত্বভার গ্রহণের প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানান। ভাষণ শেষে তিনি তার অসুস্থ মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান। শান্তি ও সমৃদ্ধির শপথ নিয়ে ‘সবাই মিলে করবো কাজ, গড়বো মোদের বাংলাদেশ’ স্লোগানের মাধ্যমে তিনি তার ঐতিহাসিক বক্তব্যের সমাপ্তি টানেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন