দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আজ ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বেলা পৌনে ১২টায় তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-২০২ ড্রিমলাইনারটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করলে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সূচনা হয়। তার সঙ্গে একই ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
এর আগে লন্ডন সময় বুধবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টায় হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন তিনি। দীর্ঘ যাত্রাপথ শেষে আজ সকাল ১০টায় বিমানটি প্রথম যাত্রাবিরতি হিসেবে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেই মাহেন্দ্রক্ষণে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন বার্তায় তারেক রহমান লেখেন, দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে!
বিমানবন্দরে অবতরণের পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ শীর্ষ নেতারা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি একটি লাল-সবুজের বিশেষ বুলেটপ্রুফ মিনিবাসে চড়ে সংবর্ধনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। বর্তমানে তিনি বিমানবন্দর থেকে কুড়িল হয়ে পূর্বাচলের পথে রয়েছেন।
এদিকে তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকার পূর্বাচল সংলগ্ন ৩০০ ফিট এলাকার জুলাই এক্সপ্রেসওয়েতে লাখ লাখ নেতাকর্মীর ঢল নেমেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ ও দলীয় কর্মীরা তাকে একনজর দেখতে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন। বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত বিশাল গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারেক রহমান দেশবাসীর উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে তারেক রহমানের সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে যাওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে চিকিৎসাধীন তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করবেন। মা-ছেলের এই পুনর্মিলনীকে ঘিরে দলটির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আবেগ ও উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন