প্রযুক্তি ডেস্ক | বিডি নিউজ সত্যকথা
বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমাদের ফোন নম্বর একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়া লগইন—সবখানেই ফোন নম্বর ব্যবহৃত হয়। হোয়াটসঅ্যাপে ফোন নম্বর দৃশ্যমান থাকায় এতদিন ব্যবহারকারীরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হতেন:
অপরিচিত কল: গ্রুপে থাকা অপরিচিত ব্যক্তিরা নম্বর সংগ্রহ করে বিরক্তিকর কল বা স্প্যাম মেসেজ পাঠাত।
নারীদের নিরাপত্তা: নারী ব্যবহারকারীরা অনেক সময় নম্বর ফাঁসের ভয়ে পাবলিক গ্রুপে অংশ নিতে অস্বস্তি বোধ করতেন।
ব্যক্তিগত গোপনীয়তা: প্রফেশনাল কোনো প্রয়োজনে কাউকে মেসেজ দিতে হলেও নিজের ব্যক্তিগত নম্বরটি দিয়ে দিতে হতো।
এই সমস্যাগুলো স্থায়ীভাবে সমাধান করতেই হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষ এই নতুন ফিচারের ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস (Android and iOS) উভয় প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারকারীরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা উপভোগ করবেন।
ইউজারনেম ফিচারটি ঠিক কী এবং কীভাবে কাজ করবে?
সহজ কথায় বলতে গেলে, এটি আপনার একটি ডিজিটাল পরিচয়। আপনি আপনার পছন্দের একটি নাম (যেমন: @Sagor_2026) সেট করে রাখবেন। কেউ যদি আপনাকে হোয়াটসঅ্যাপে খুঁজে পেতে চায়, তবে আপনার ফোন নম্বরের বদলে কেবল এই ইউজারনেমটি সার্চ করলেই আপনার প্রোফাইল চলে আসবে।
ফিচারটির মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
১. ফোন নম্বর হাইড: আপনি চাইলে আপনার ফোন নম্বরটি সম্পূর্ণ হাইড বা গোপন রাখতে পারবেন।
২. ইউনিক আইডেন্টিটি: একটি ইউজারনেম কেবল একজনই ব্যবহার করতে পারবেন।
৩. ইজি সার্চিং: নম্বর সেভ করার ঝামেলা ছাড়াই সরাসরি ইউজারনেম দিয়ে চ্যাট শুরু করা যাবে।
ইউজারনেম তৈরির নিয়মাবলী ও শর্তসমূহ
হোয়াটসঅ্যাপে ইউজারনেম সেট করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু কারিগরি নিয়ম বা গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। টেকলুসিভ ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর তথ্যমতে নিয়মগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
অক্ষর ও সংখ্যা: ইউজারনেমে অন্তত একটি বর্ণ (Letter) থাকতে হবে। ছোট হাতের বর্ণ (a-z) এবং সংখ্যা (0-9) ব্যবহার করা যাবে।
স্পেশাল ক্যারেক্টার: ডট (.) এবং আন্ডারস্কোর (_) ব্যবহার করা যাবে, যা নামটিকে আরও অর্থবহ করবে।
নিষেধাজ্ঞা: ইউজারনেম কখনও 'www.' দিয়ে শুরু করা যাবে না। এছাড়া '.com' বা '.net' দিয়ে শেষ করা যাবে না।
শুরু ও শেষ: নামের শুরুতে বা শেষে ডট (.) ব্যবহার করা যাবে না।
দৈর্ঘ্য: ইউজারনেমটি অবশ্যই ৩ থেকে ৩০ অক্ষরের মধ্যে হতে হবে। খুব ছোট বা বিশাল বড় নাম সিস্টেম গ্রহণ করবে না।
‘সত্যকথা বিশ্লেষণ’: এটি কি সত্যিই নিরাপদ?
আমাদের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এই ফিচারের সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে একটি সবিশেষ বিশ্লেষণ করেছেন।
ইতিবাচক দিক:
হোয়াটসঅ্যাপ এতদিন পর্যন্ত এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন (End-to-End Encryption) দিয়ে মেসেজের সুরক্ষা দিলেও মেটা-ডেটা বা ফোন নম্বরের সুরক্ষা দিতে পারছিল না। ইউজারনেম ফিচারটি আসার ফলে সাইবার বুলিং এবং ডেটা স্ক্র্যাপিং অনেকাংশেই কমে যাবে। বিশেষ করে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি আস্থার নাম হবে।
নেতিবাচক দিক বা চ্যালেঞ্জ:
ইউজারনেম চালু হওয়ার ফলে ফিশিং অ্যাটাক বা ফেক অ্যাকাউন্টের প্রবণতা বাড়তে পারে। জনপ্রিয় ব্যক্তিদের নামে ফেক ইউজারনেম তৈরি করে প্রতারণা করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে হোয়াটসঅ্যাপ যদি এর সাথে 'ভেরিফাইড ব্যাজ' বা ব্লু টিক পলিসি আরও সহজ করে, তবে এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
ধাপে ধাপে ব্যবহারের পদ্ধতি
বর্তমানে এই ফিচারটি বিটা (Beta) পর্যায়ে রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। এটি চালু করতে আপনাকে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে:
১. হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংস (Settings) অপশনে যান।
২. আপনার প্রোফাইল (Profile) আইকনে ক্লিক করুন।
৩. নামের নিচেই ইউজারনেম (Username) সেট করার অপশন পাবেন।
৪. আপনার পছন্দের নামটি টাইপ করুন। যদি সেটি এভেইলএবল থাকে, তবে সেভ বাটনে ক্লিক করুন।
ভবিষ্যতের স্মার্ট যোগাযোগ
প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত বিবর্তিত হচ্ছে। হোয়াটসঅ্যাপের এই পদক্ষেপ তাদের প্রতিযোগীদের (টেলিগ্রাম, সিগন্যাল) থেকে আরও একধাপ এগিয়ে রাখবে। ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে এই ইউজারনেম সুবিধা একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
আরও পড়ুন: বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশ: টাইম ম্যাগাজিনের ১০০ প্রভাবশালী তালিকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন