খেলাধুলা ডেস্ক | বিডি নিউজ সত্যকথা
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-কে ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব এবার আছড়ে পড়েছে খেলার মাঠে। আসন্ন বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে ঘোর সংশয় প্রকাশ করেছে ইরান। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমদ দোনিয়ামালি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এবং ম্যাচের ভেন্যু পরিবর্তন না করা হলে ইরান বিশ্বকাপে অংশ নাও নিতে পারে।
![]() |
| ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয়: প্রতীকী ছবি। — বিডি নিউজ সত্যকথা |
ভেন্যু বিতর্কে অনড় ইরান
রোববার (৫ এপ্রিল) তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আহমদ দোনিয়ামালি বলেন, “আমরা ফিফার কাছে আমাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোতে সরিয়ে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত ফিফা থেকে ইতিবাচক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।” তিনি স্পষ্ট করেন যে, যদি এই অনুরোধ রাখা হয়, তবেই ইরানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। অন্যথায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে লস অ্যাঞ্জেলেস বা সিয়াটলের মতো মার্কিন শহরগুলোতে খেলতে যাওয়া ইরানের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার কথা। আগামী ১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা ছিল। এরপর ২২ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসেই বেলজিয়াম এবং ২৭ জুন সিয়াটলে মিসরের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার বিদ্যমান উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে এই সূচি এখন খাদের কিনারায়।
ট্রাম্পের মন্তব্য ও নিরাপত্তা শঙ্কা
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক মন্তব্য। ট্রাম্প ইরানি দলকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বাগত জানালেও তাদের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি এক বক্তব্যে বলেন, “ইরানি ফুটবলারদের নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাদের জন্য উপযুক্ত হবে বলে আমি মনে করি না।”
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী তাজ কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই যেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছেন না, সেখানে আমাদের খেলোয়াড়দের পাঠানো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে।” এর পরিবর্তে তারা মেক্সিকোতে ম্যাচ আয়োজনের বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে ফিফার ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।
ফিফার অনড় অবস্থান: নেই কোনো ‘প্ল্যান বি’
অন্যদিকে, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। গত বুধবার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর তিনি জানান, ড্র অনুযায়ী নির্ধারিত ভেন্যুতেই খেলা হবে। ফিফার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এখানে কোনো প্ল্যান বি, সি বা ডি নেই। প্ল্যান ‘এ’ অর্থাৎ পূর্বনির্ধারিত সূচিই একমাত্র পরিকল্পনা।” তবে ইরান যাতে নির্বিঘ্নে খেলতে পারে, সে বিষয়ে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে ফিফা।
বিডি নিউজ সত্যকথা বিশ্লেষণ
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ফুটবলের এই সংকটকে কেবল ‘নিরাপত্তা ইস্যু’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিডি নিউজ সত্যকথা মনে করে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যটি একটি মনস্তাত্ত্বিক চাপের অংশ হতে পারে। অন্যদিকে, ফিফা সাধারণত কোনো রাজনৈতিক কারণে ভেন্যু পরিবর্তন করতে রাজি হয় না, কারণ এতে টুর্নামেন্টের লজিস্টিকস এবং বাণিজ্যিক স্পন্সরশিপ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইরান যদি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ বয়কট করে, তবে তা ফিফার বৈশ্বিক ইমেজের জন্য বড় ধাক্কা হবে। ৪৮ দলের এই বর্ধিত বিশ্বকাপে ইরানের মতো একটি শক্তিশালী দলের অনুপস্থিতি টুর্নামেন্টের উত্তেজনা কমিয়ে দিতে পারে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—ক্রীড়াঙ্গন কি শেষ পর্যন্ত রাজনীতির কাছে হার মানবে?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন