লাইফস্টাইল ডেস্ক | বিডি নিউজ সত্যকথা
![]() |
| অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার বার্ধক্য রুখতে এবং রোগমুক্ত থাকতে জাদুর মতো কাজ করে। |
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আসলে কী?
সহজ কথায় বলতে গেলে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হলো কিছু বিশেষ উপাদান যা ভিটামিন, খনিজ বা উদ্ভিজ্জ যৌগ হিসেবে আমাদের খাবারে থাকে। আমাদের শরীরে যখন বিপাক প্রক্রিয়া চলে বা আমরা যখন দূষণ, ধোঁয়া কিংবা রোদের সংস্পর্শে আসি, তখন শরীরে কিছু ক্ষতিকর অণু তৈরি হয়, যাদের বলা হয় ‘ফ্রি র্যাডিক্যাল’ বা ‘অক্সিডেন্ট’। এই ফ্রি র্যাডিক্যালগুলো শরীরের সুস্থ কোষকে আক্রমণ করে ধ্বংস করে ফেলে। ঠিক এখানেই হিরোর মতো কাজ করে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি রক্ত প্রবাহ থেকে এই বিষাক্ত অক্সিডেন্টগুলোকে সরিয়ে ফেলে এবং কোষকে রক্ষা করে।
ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজের পুষ্টিবিদ উম্মে কুলসুম রহমান জানান, শরীরকে দীর্ঘ সময় সতেজ রাখতে হলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অক্সিডেন্টের মধ্যে ভারসাম্য থাকা জরুরি। সাধারণত শরীরে প্রাকৃতিকভাবে যে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উৎপন্ন হয়, তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। তাই আমাদের প্রতিদিনের খাবারের মাধ্যমে বাইরে থেকে এর জোগান দিতে হয়।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের জাদুকরী উপকারিতা
১. তারুণ্য ও ত্বকের লাবণ্য: কার না ইচ্ছে করে চিরকাল তরুণ থাকতে? অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখে। এটি সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতি থেকে ত্বককে বাঁচায়। ফলে ত্বক থাকে উজ্জ্বল, টানটান এবং বলিরেখামুক্ত। যারা নিয়মিত রঙিন ফলমূল খান, তাদের চেহারায় বয়সের ছাপ দেরিতে পড়ে।
২. হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস: হার্ট ভালো রাখতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের বিকল্প নেই। এটি রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের (LDL) মাত্রা কমায় এবং ধমনীকে পরিষ্কার রাখে। ফলে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।
৩. ক্যানসার প্রতিরোধ: ফ্রি র্যাডিক্যাল ডিএনএ-র ক্ষতি করে ক্যানসার তৈরি করতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এই কোষ বিভাজনের অস্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধা দেয়, যা ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে।
৪. চোখ ও স্মৃতিশক্তি: বয়স বাড়ার সাথে সাথে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া বা ভুলে যাওয়ার প্রবণতা রোধ করতে লুটিন ও জেক্সানথিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট খুব ভালো কাজ করে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সেরা প্রাকৃতিক উৎস
আপনার রান্নাঘর আর কাছের বাজারেই লুকিয়ে আছে স্বাস্থ্যের এই ধন। জেনে নিন কোন খাবারগুলোতে এর পরিমাণ সবচেয়ে বেশি:
বেরি জাতীয় ফল: ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি এবং রাস্পবেরি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের রাজা। এতে থাকা অ্যান্থোসায়ানিন শরীরের প্রদাহ কমায়।
সবুজ ও রঙিন শাকসবজি: পালং শাক, ব্রকলি, টমেটো, গাজর এবং মিষ্টি আলু। বিশেষ করে টমেটোতে থাকা লাইকোপিন রান্নার পর আরও বেশি কার্যকর হয়।
ফলমূল: আম, পেঁপে, পেয়ারা, কমলা এবং আঙুর। বিশেষ করে কিশমিশে আঙুরের চেয়ে তিনগুণ বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।
বাদাম ও বীজ: আখরোট, কাঠবাদাম, চিয়া সিড ও তিসির বীজ। প্রতিদিন এক মুঠো বাদাম মানেই শরীরে প্রাণশক্তি বৃদ্ধি।
ডার্ক চকোলেট ও পানীয়: ডার্ক চকোলেট (কমপক্ষে ৭০% কোকো) হার্টের জন্য মহৌষধ। এছাড়া গ্রিন টি-তে থাকা ক্যাটেচিন মেদ ঝরাতে ও রোগ প্রতিরোধে অতুলনীয়।
সুস্থ জীবনযাপনের পাঁচ সূত্র
কেবল খাবার খেলেই হবে না, তারুণ্য ধরে রাখতে জীবনযাত্রায় আনতে হবে কিছু পরিবর্তন:
১. পর্যাপ্ত ঘুম: প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম শরীরের কোষ মেরামতে সাহায্য করে।
২. মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: দুশ্চিন্তা করলে শরীরে অক্সিডেন্ট বাড়ে। তাই ইয়োগা বা মেডিটেশন করুন।
৩. ব্যায়াম: প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন। এটি রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টকে শরীরের কোণায় কোণায় পৌঁছে দেয়।
৪. বর্জনীয় অভ্যাস: ধূমপান, মদ্যপান এবং অতিরিক্ত সফট ড্রিংকস খাওয়া বন্ধ করতে হবে। এগুলো শরীরের সবচেয়ে বড় শত্রু।
৫. ত্বকের যত্ন: সপ্তাহে অন্তত একদিন স্ক্রাব ব্যবহার করে মৃত কোষ দূর করুন এবং দিনে দুবার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
বিডি নিউজ সত্যকথা বিশ্লেষণ
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মানেই দামী কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট নয়। আমাদের দেশের স্থানীয় ফল যেমন- আমলকী, পেয়ারা বা কামরাঙাতে পশ্চিমা ব্লুবেরির চেয়েও অনেক সময় বেশি পুষ্টিগুণ থাকে। বাজারে পাওয়া যাওয়া ভিনদেশি দামী ফলের পেছনে না ছুটে আমাদের দেশীয় মৌসুমি রঙিন শাকসবজি নিয়মিত খেলে শরীর অনেক বেশি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করবে। মনে রাখবেন, ওষুধ খেয়ে সুস্থ থাকার চেয়ে খাবার খেয়ে সুস্থ থাকা অনেক বেশি স্থায়ী ও সাশ্রয়ী। বিশেষ করে বর্তমানের ভেজাল খাবারের যুগে ‘বিডি নিউজ সত্যকথা’ পাঠকদের অনুরোধ করবে প্রতিদিন অন্তত একটি রঙিন ফল বা এক বাটি শাক খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এবার “মেঘ চুরির” চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন