বনগাঁ সীমান্তে নাটকীয় গ্রেপ্তার
রোববার (৮ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ-এর পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সূত্রে খবর পাওয়া যায় যে, বাংলাদেশে খুন ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক গুরুতর অপরাধে জড়িত দুই নাগরিক অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে। তারা বনগাঁ এলাকায় আত্মগোপন করে পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে ৭ মার্চ রাত থেকে ৮ মার্চ ভোরের মধ্যবর্তী সময়ে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটককৃতদের পরিচয়:
১. ফয়সাল করিম মাসুদ (৩৭): ডাকনাম রাহুল। তিনি বাংলাদেশের পটুয়াখালী জেলার বাসিন্দা এবং হত্যাকাণ্ডের মূল শুটার হিসেবে অভিযুক্ত।
২. আলমগীর হোসেন (৩৪): ঢাকার বাসিন্দা এবং মাসুদের প্রধান সহযোগী।
মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পলায়ন
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছে যে, ওসমান হাদিকে চলন্ত রিকশায় গুলি করে হত্যার পর তারা প্রথমে ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে বেড়ায়। সর্বশেষ বনগাঁ হয়ে আবারও বাংলাদেশে প্রবেশের ছক কষছিল তারা, তখনই পুলিশের জালে ধরা পড়ে।
১৪ দিনের পুলিশি রিমান্ড
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। রোববার তাদের স্থানীয় আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৪ দিনের পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে প্রকাশ্য দিবালোকে চলন্ত রিকশায় গুলি করে হত্যার পর দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। গোয়েন্দা তথ্যে আগেই জানানো হয়েছিল যে তারা সীমান্ত পার হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। ভারতের বিশেষ টাস্ক ফোর্সের এই সফল অভিযানে মূল আসামিরা ধরা পড়ায় এখন তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন