ব্যাটিং তাণ্ডবে পাহাড়সম পুঁজি
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে আহমেদাবাদের গ্যালারি মাতিয়ে তোলেন ভারতীয় ব্যাটাররা। দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসন কিউই বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান। অভিষেক মাত্র ১৮ বলে বিধ্বংসী ফিফটি তুলে নেন, যা এই বিশ্বকাপের দ্রুততম। তিনি ২১ বলে ৫১ রান করে বিদায় নিলেও তাণ্ডব থামেনি।
দ্বিতীয় উইকেটে ইশান কিষাণকে নিয়ে তান্ডব চালিয়ে যান টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় সঞ্জু স্যামসন। ইশান ২৫ বলে ৫৪ রান করে আউট হলেও স্যামসন খেলেন ৪৫ বলে ৮৯ রানের এক রাজকীয় ইনিংস। ৫টি চার ও ৮টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসের পথে তিনি চলতি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ছক্কার (২৪টি) রেকর্ডও নিজের করে নেন। শেষদিকে শিবম দুবের ৮ বলে ২৬ রানের ঝড়ে ভারত পায় ২০ ওভারে ২৫৫ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ।
বুমরাহর তোপে দিশেহীন কিউইরা
২৫৬ রানের রেকর্ড লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই জাসপ্রিত বুমরাহ ও অক্ষর প্যাটেলের তোপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। পাওয়ার প্লের ৬ ওভার শেষ হওয়ার আগেই ৪ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় কিউইরা। ওপেনার টিম সেইফার্ট ২৬ বলে ৫২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও অন্য প্রান্ত থেকে যোগ্য সঙ্গ পাননি।
মাঝপথে অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ৩৫ বলে ৪৩ রান করে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু বুমরাহর অবিশ্বাস্য স্পেলের সামনে আত্মসমর্পণ করতে হয় তাদের। বিশ্বের সেরা পেসার বুমরাহ মাত্র ১৫ রান দিয়ে নেন ৪টি উইকেট। ১৯ ওভারে ১৫৯ রানেই গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস।
রেকর্ডের পাতায় ভারত
ভারতের এই জয় অনেকগুলো ‘প্রথম’-এর জন্ম দিয়েছে:
প্রথম দল হিসেবে ঘরের মাঠে শিরোপা জিতল।
প্রথম দল হিসেবে তিনটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলল।
ফাইনালের ইতিহাসে ৯৬ রানের জয়টি সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২৫৫/৫ (২০ ওভার); স্যামসন ৮৯, কিষাণ ৫৪, অভিষেক ৫১, দুবে ২৬*; নিশাম ৩/৪৬, রবীন্দ্র ১/৩২।
নিউজিল্যান্ড: ১৫৯/১০ (১৯ ওভার); সেইফার্ট ৫২, স্যান্টনার ৪৩; বুমরাহ ৪/১৫, অক্ষর ৩/২৭, অভিষেক ১/৫।
ফল: ভারত ৯৬ রানে জয়ী।
ফাইনালের সেরা: জাসপ্রিত বুমরাহ।
টুর্নামেন্টের সেরা: সঞ্জু স্যামসন।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন