কেন এই রাত হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ?
মহাগ্রন্থ আল কোরআনে রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন, “তুমি কি জানো শবে কদর কী? শবে কদর এক হাজার মাস অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ। সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রূহ প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে অবতীর্ণ হয়। সে রাত (আদ্যোপান্ত) শান্তি, ফজরের আবির্ভাব পর্যন্ত।” (সুরা কদর : ১-৫)।
বিশ্লেষকদের মতে, এই এক রাতের ইবাদত ৮৩ বছর ৪ মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশি সওয়াব বয়ে আনে। এই রাতেই মানবজাতির হেদায়েতের আলোকবর্তিকা ‘আল কোরআন’ লওহে মাহফুজ থেকে দুনিয়ার আকাশে নাজিল হয়েছিল।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বিশেষ আমল ও নির্দেশনা
হাদিস অনুযায়ী, রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯) শবে কদর তালাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদতের মধ্যে রাত জাগবে, তার আগের গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (বুখারি : ৩৫)।
রমজানের শেষ দশকে নবীজি (সা.) ইবাদতের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতেন। উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, যখন রমজানের শেষ দশক আসত, তখন নবীজি (সা.) তাঁর লুঙ্গি কষে নিতেন (বেশি ইবাদতের প্রস্তুতি নিতেন) এবং রাতে জেগে থাকতেন ও পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন।
লাইলাতুল কদরের ১০টি বিশেষ আমল
বিডিনিউজ সত্যকথা’র পাঠকদের জন্য এই রাতের গুরুত্বপূর্ণ কিছু আমল তুলে ধরা হলো:
নফল নামাজ: সামর্থ্য অনুযায়ী দীর্ঘ কিরাত ও সিজদাহসহ নফল নামাজ আদায় করা।
আওয়াবিন ও তাহাজ্জুদ: মাগরিবের পর ৬ রাকাত আওয়াবিন এবং শেষ রাতে সেহরির আগে তাহাজ্জুদ আদায় করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।
সালাতুত তাসবিহ: জীবনের গুনাহ খাতার জন্য অন্তত একবার এই বিশেষ নামাজ পড়া উচিত।
কোরআন তেলাওয়াত: যেহেতু কোরআন নাজিলের রাত, তাই অর্থসহ কোরআন পাঠ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বিশেষ দোয়া পাঠ: নবীজি (সা.) হযরত আয়েশা (রা.)-কে এই দোয়াটি শিখিয়েছিলেন: “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি” (হে আল্লাহ, আপনি মহান ক্ষমাকারী, ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব আমাকে ক্ষমা করুন)।
জিকির ও দরুদ: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ এবং নবীজির ওপর দরুদ পাঠ করা।
তওবা ও ইস্তিগফার: কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে অতীত ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়া।
দান-সদকা ও ফিতরা: আর্তমানবতার সেবায় দান করা এবং ঈদুল ফিতরের আগেই সদকাতুল ফিতর আদায় করা।
বিবাদ মিটিয়ে ফেলা: কারো সঙ্গে ঝগড়া বা মনোমালিন্য থাকলে তা মিটিয়ে নেওয়া ইবাদতের অংশ।
সবার জন্য দোয়া: নিজের পাশাপাশি পরিবার, দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তির জন্য মোনাজাত করা।
দেশজুড়ে প্রস্তুতি
পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের প্রতিটি মসজিদে বিশেষ ওয়াজ মাহফিল ও আখেরি মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশের পাড়া-মহল্লায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন