ইসরায়েলি লবির চাপ ও যুদ্ধের নেপথ্য কারণ
জো কেন্ট তার পদত্যাগপত্রে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় এই যুদ্ধের সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো আসন্ন হুমকি (Imminent Threat)-এর প্রমাণ ছিল না। তার দাবি, মূলত ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত শক্তিশালী ইসরায়েলি লবির প্রচণ্ড চাপের কারণেই ট্রাম্প প্রশাসন এই যুদ্ধ শুরু করেছে। কেন্ট মনে করেন, এই যুদ্ধ মার্কিন জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে না, বরং এটি একটি কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সংকট। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশাসনের ভেতরকার একজন শীর্ষ কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন অভিযোগ আসা আন্তর্জাতিক মহলে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা দাবি
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য বরাবরই এই যুদ্ধকে অপরিহার্য বলে দাবি করে আসছেন। তিনি বারবার বলেছেন যে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক ভয়াবহ হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে জো কেন্টের পদত্যাগের পর ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ছিল অনেকটা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার মতো। ওভাল অফিসে এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, তিনি কেন্টকে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করলেও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে কেন্টকে বরাবরই দুর্বল মনে করতেন। ট্রাম্পের মতে, কেন্ট পদত্যাগ করায় বরং ভালোই হয়েছে, কারণ যারা ইরানকে হুমকি মনে করে না, তাদের প্রশাসনে থাকার প্রয়োজন নেই। ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন যে, বহু সামরিক বিশেষজ্ঞ অনেক আগে থেকেই ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করার পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন।
ব্যক্তিগত শোক ও যুদ্ধের বিরোধিতা
জো কেন্টের পদত্যাগ কেবল একজন সরকারি কর্মকর্তার চলে যাওয়া নয়, এর পেছনে রয়েছে এক গভীর ব্যক্তিগত বেদনা। কেন্ট একজন যুদ্ধজয়ী বীর হিসেবে ১১ বার মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন ছিলেন। তার স্ত্রী নেভি সিনিয়র চিফ পেটি অফিসার শ্যানন কেন্ট ২০১৯ সালে সিরিয়ায় এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন। গোল্ড স্টার হাসব্যান্ড হিসেবে কেন্ট তার চিঠিতে লিখেছেন যে, তিনি তার প্রিয়তমাকে হারিয়েছেন এমন এক যুদ্ধে যা তার মতে ইসরায়েলের দ্বারা প্ররোচিত ছিল। তাই পরবর্তী প্রজন্মকে এই ধরনের অনর্থক যুদ্ধে ঠেলে দেওয়া তার বিবেক সায় দেয় না। তার এই আবেগপূর্ণ বক্তব্য মার্কিন সাধারণ মানুষের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী মনোভাবকে আরও উসকে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
মার্কিন আইনসভার ভেতরেও এই পদত্যাগ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার বলেছেন যে, কেন্টের অনেক মতের সাথে তিনি একমত না হলেও এই বিষয়ে কেন্ট একদম সঠিক যে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো বিশ্বাসযোগ্য হুমকির প্রমাণ ছিল না। অন্যদিকে হাউজ স্পিকার মাইক জনসন কেন্টের দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন যে, গোয়েন্দা ব্রিফিং অনুযায়ী ইরান পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। সব মিলিয়ে জো কেন্টের পদত্যাগ মার্কিন রাজনীতিতে এক বিশাল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে যার রেশ দীর্ঘ সময় ধরে থাকবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন