সামরিক অভিযানে ফ্রান্সের অসম্মতি
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ। এই পথটি সচল রাখা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য হলেও ফরাসি প্রেসিডেন্ট মনে করেন, বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে কোনো সামরিক জোটে অংশ নেওয়া ফ্রান্সের জন্য সমীচীন হবে না। তিনি সরাসরি বলেছেন যে, ফ্রান্স এই যুদ্ধের কোনো পক্ষ নয় এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রণালি উন্মুক্ত করার অভিযান এ তাদের অংশগ্রহণের কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে এর মানে এই নয় যে ফ্রান্স এই অঞ্চল থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছে। ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর সেখানে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা (Freedom of Navigation) ফিরিয়ে আনতে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্যারিস।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাশা ও ম্যাক্রোঁর প্রতিক্রিয়া
বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাক্রোঁর এই বক্তব্য মূলত ওয়াশিংটনের ওপর এক ধরনের কূটনৈতিক চাপ। এর আগে সোমবার হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) দাবি করেছিলেন যে, তিনি ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন। হরমুজ প্রণালি সচল করতে মিত্রদের রাজি করানোর বিষয়ে ম্যাক্রোঁর অবস্থানকে ট্রাম্প ১০-এর মধ্যে ৮ নম্বর দিয়েছিলেন। ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, শেষ পর্যন্ত ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন প্রচেষ্টায় যোগ দেবে। কিন্তু এর পরের দিনই মন্ত্রিসভার বৈঠকে ম্যাক্রোঁ সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে ট্রাম্পের প্রত্যাশায় পানি ঢেলে দিয়েছেন।
স্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট গঠনের পরিকল্পনা
ফরাসি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ফ্রান্স এমন একটি জোট গঠন করতে চায় যা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হবে না। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার পর ফ্রান্স এই অঞ্চলটিতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখতে চায়, তবে তা যুদ্ধের মাধ্যমে নয়। ম্যাক্রোঁ সচেতনভাবেই পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, যখন মূল বোমা হামলা বা সরাসরি সংঘাত বন্ধ হবে, তখন ফ্রান্স অন্যান্য বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সাথে মিলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য এসকর্ট বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত থাকবে।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও বৈশ্বিক প্রভাব
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক विशेषज्ञोंর মতে, ফ্রান্সের এই কৌশলটি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। একদিকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র হিসেবে নিজেদের গুরুত্ব বজায় রাখছে, অন্যদিকে ইরানের সাথে সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক স্বার্থ নষ্ট করতে চাইছে না। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে যখন মধ্যপ্রাচ্য নীতি আরও কঠোর হচ্ছে, তখন ফ্রান্স নিজেদের একটি মধ্যস্থতাকারী শক্তি হিসেবে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন