হামলার বিবরণ ও ভবন ধস
শনিবার ভোররাত থেকে ডিমোনা শহরজুড়ে অন্তত ১২টি পৃথক স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও তার ধ্বংসাবশেষ পড়ার খবর পাওয়া গেছে। ইসরায়েলের ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস জানিয়েছে, একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হলেও এর বিশাল একটি অংশ শহরের একটি আবাসিক ভবনের ওপর পড়ে। এতে মুহূর্তের মধ্যেই ভবনটি ধসে পড়ে এবং ভেতরে থাকা বাসিন্দারা আটকা পড়েন।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম 'চ্যানেল ১২ নিউজ' জানিয়েছে, ইরান এই হামলায় 'ক্লাস্টার মিউনিশন' (গুচ্ছ বোমা) সমৃদ্ধ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। উদ্ধারকারী দলগুলো ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে আছে কি না, তা নিশ্চিতে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।
নিউক্লিয়ার হার্টে আঘাতের চেষ্টা?
ডিমোনা শহরটি ইসরায়েলের জন্য কৌশলগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল এলাকা। কারণ এই শহরের কাছেই অবস্থিত 'শিমন পেরেস নেগেভ নিউক্লিয়ার রিসার্চ সেন্টার', যা ইসরাইলের অনানুষ্ঠানিক পারমাণবিক কর্মসূচির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ১৯৫০-এর দশকে ফ্রান্সের সহায়তায় নির্মিত এই স্থাপনাটি বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত জায়গা হিসেবে বিবেচিত।
চলতি মাসের শুরুতেই তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা করে, তবে তারা ডিমোনার এই পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করবে। আজকের এই ধারাবাহিক হামলা সেই হুমকিরই প্রতিফলন কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিশ্লেষণ।
বহুমুখী সংকটে ইসরায়েল
দক্ষিণে ইরানের এই বিধ্বংসী হামলার পাশাপাশি উত্তর ইসরায়েলেও নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। লেবানন সীমান্ত থেকে হিজবুল্লাহর রকেট বর্ষণের ফলে পশ্চিম গ্যালিলি অঞ্চলের নাহারিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় একযোগে সাইরেন বেজে ওঠে। অর্থাৎ, ইসরায়েল এখন দক্ষিণ ও উত্তর—উভয় দিক থেকেই একযোগে আক্রমণের মুখে পড়েছে।
ডিমোনা শহরে ইরানের এই পঞ্চম দফার হামলা কেবল সামরিক অভিযান নয়, বরং এটি ইসরায়েলের অস্তিত্বের মূলে এক বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক আঘাত। ডিমোনাকে বলা হয় ইসরায়েলের 'নিউক্লিয়ার আম্ব্রেলা' বা পারমাণবিক ছাতা। এই এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র পৌঁছানো মানে হলো ইসরায়েলের বহুল আলোচিত 'আয়রন ডোম' বা 'অ্যারো' প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পাওয়া।
ইরান সম্ভবত সরাসরি পারমাণবিক কেন্দ্রে আঘাত করে তেজস্ক্রিয়তা ছড়াতে চাইছে না, বরং তারা দেখাতে চাইছে যে—ইসরায়েলের সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থাপনাটিও এখন তাদের নাগালের বাইরে নয়। এটি যুদ্ধের ময়দানে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যদি সংঘাত এভাবে বাড়তে থাকে এবং ডিমোনার মূল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্য এক অপূরণীয় বিপর্যয়ের মুখে পড়বে, যার প্রভাব শুধু এই অঞ্চলে নয়, পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন