সত্যকথা ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিমুখী যুদ্ধের প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট ‘হরমুজ প্রণালী’। এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার সরাসরি তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় বসেছে চীন। খবর রয়টার্স-এর।
চীনের উদ্বেগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, চীন চায় তাদের তেলবাহী জাহাজ এবং কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী জাহাজগুলো যেন কোনো বাধা ছাড়াই হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে পারে। উল্লেখ্য, চীনের মোট চাহিদার প্রায় ৪৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই রুট দিয়ে আসে। ফলে এই পথ বন্ধ থাকা মানেই চীনের অর্থনীতিতে বড় ধরণের ধস।
স্থবির নৌপথ: ২৪টির জায়গায় চলছে মাত্র ৪টি জাহাজ
যুদ্ধ শুরুর আগে জানুয়ারি মাসে প্রতিদিন গড়ে ২৪টি জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করত। কিন্তু ভেসেল ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ভর্টেক্সা-র তথ্য অনুযায়ী, গত ১ মার্চ এই পথ দিয়ে মাত্র ৪টি ট্যাঙ্কার চলাচল করেছে। বর্তমানে প্রায় ৩০০টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার প্রণালীর ভেতরে আটকা পড়ে আছে।
পরিচয় বদলে পার হচ্ছে জাহাজ
জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটায় এক অদ্ভুত চিত্র উঠে এসেছে। সম্প্রতি ‘আয়রন মেইডেন’ নামে একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় তার সংকেতে (Signal) মালিকানার পরিচয় বদলে ‘চায়না-ওনার’ (Chinese Owned) হিসেবে প্রচার করে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের হামলা থেকে বাঁচতে অনেক জাহাজই এখন চীনের পরিচয় ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। কারণ, ইরান আগেই ঘোষণা দিয়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল বা ইউরোপীয় মিত্রদের কোনো জাহাজ এই পথে চলতে দেওয়া হবে না, তবে চীনের বিষয়ে তারা নীরব ছিল।
জ্বালানি বাজারে আগুনের হলকা
সংঘাত শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ইতিমধ্যে ১৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনা ও জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরণের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। দুবাইভিত্তিক আল খালিজ সুগারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জামাল আল-ঘুরাইর জানান, বর্তমানে কেবল চীন বা ইরানের মালিকানাধীন জাহাজগুলোই কিছুটা সুবিধা পাচ্ছে, বাকিদের জন্য পথ প্রায় রুদ্ধ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন