দেশের ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অভিবাসী কর্মীদের হয়রানি বন্ধে ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’ সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বৃহস্পতিবার এই অধ্যাদেশটি জারি করেন এবং শুক্রবার আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেছে।
নতুন এই নীতিমালায় অফলাইন ও অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য পৃথক ব্যাংক গ্যারান্টির বিধান রাখা হয়েছে। এখন থেকে অফলাইন এজেন্সির জন্য ১০ লাখ টাকা এবং অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য ১ কোটি টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। টিকিটের কৃত্রিম সংকট তৈরি রোধে বানোয়াট বা ফলস বুকিং দেওয়াকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি এক এজেন্সি অন্য এজেন্সির কাছে টিকিট বেচাকেনা করতে পারবে না এবং সরকার নির্ধারিত আর্থিক মাধ্যম ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে লেনদেন করা যাবে না।
গ্রাহকদের সুরক্ষা দিতে চটকদার বিজ্ঞাপন বা মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে অগ্রিম অর্থ আদায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশেষ করে অভিবাসী কর্মীদের জন্য তৃতীয় কোনো দেশ থেকে টিকিট কেনা এবং টিকিট নিশ্চিত হওয়ার পর যাত্রীর তথ্য পরিবর্তন করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ এক বছরের জেল অথবা ১০ লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ক্ষমতাও পাবে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ।
নতুন নিয়মে ট্রাভেল এজেন্সির সনদ প্রতি তিন বছর পর নবায়ন করতে হবে এবং প্রতি বছর সরকারের কাছে বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। এছাড়া কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি নতুন করে ট্রাভেল এজেন্সির লাইসেন্স নিতে পারবেন না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন