প্রযুক্তি ডেস্ক
২০২৬ সাল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর জন্য যেমন রোমাঞ্চকর হতে পারে, তেমনি সাধারণ মানুষ ও প্রযুক্তি কর্মীদের জন্য এটি বয়ে আনতে পারে বেশ কিছু অস্বস্তিকর বাস্তবতা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি সাময়িকী ওয়্যার্ড-এর এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে আগামী বছরটি নিয়ে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ও কিছুটা ভীতিকর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই পূর্বাভাসে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে ছাঁটাই থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্রে গভীর নজরদারির মতো বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এআই খাতের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে বড় বড় প্রতিষ্ঠানে আবারও বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাইয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ওপেনএআই এবং গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই কর্মীদের কর্মসংস্থানকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এছাড়া এআই প্রশিক্ষণের জন্য বিশ্বজুড়ে গড়ে ওঠা ডেটা সেন্টারগুলো নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে জনরোষ এবং বিদেশি অপশক্তির মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর ঝুঁকি ২০২৬ সালে আরও প্রকট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রযুক্তি বিশ্বে অডিও রেকর্ড করা বা মিটিংয়ের সারাংশ তৈরি করা এআই টুলের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারীদের অনুমতি ছাড়াই এসব টুল ব্যবহারের ফলে আইনি জটিলতা ও তথ্য ফাঁসের মতো ঘটনা সামনে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে রোবট্যাক্সি বা চালকহীন ট্যাক্সির ব্যাপক বিস্তার ঘটার সম্ভাবনা থাকলেও নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ কাটছে না। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে অধিকাংশ দুর্ঘটনার জন্য রোবটের চেয়ে মানুষের ভুলই বেশি দায়ী হতে পারে। সব মিলিয়ে ২০২৬ সাল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিবর্তন ও এর নেতিবাচক প্রভাবগুলো নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের বছর হতে যাচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন