সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা ও ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। গত শুক্রবার ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন।
গত শুক্রবার দুপুরে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর শরিফ ওসমান হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত রোববার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ সংশ্লিষ্টদের এক বিশেষ বৈঠকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী গত সোমবার তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।
সিঙ্গাপুরে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা ওসমান হাদির মাথায় একটি জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান। বৃহস্পতিবার পরিবারের পক্ষ থেকে অস্ত্রোপচারের অনুমতি দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তার মৃত্যুর আগে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকেও তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে দেশবাসীকে জানানো হয়েছিল।
শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে এক শোকাতুর বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনটি দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে। দোষীদের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজধানীর শাহবাগে স্বাধীনতাকামী জনতাকে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, খুনিরা যদি দেশের বাইরে পালিয়ে থাকে তবে তাদের ফিরিয়ে আনতে সরকারকে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নিতে হবে।
শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসনের একজন সম্ভাব্য প্রার্থী এবং ইনকিলাব মঞ্চের প্রধান মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন