দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন শেষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, "দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার মাটিতে এসে পৌঁছাবেন। দলের পক্ষ থেকে তাঁকে উষ্ণ স্বাগত জানানো হবে।"
এক-এগারোর পটপরিবর্তনের পর ২০০৭ সালে তারেক রহমান গ্রেপ্তার হন। ২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর চিকিৎসার জন্য তিনি সপরিবার যুক্তরাজ্যে যান এবং তারপর থেকে সেখানেই অবস্থান করছেন।
ফেরার আলোচনা ও আইনি প্রক্রিয়া
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই তারেক রহমানের দেশে ফেরার আলোচনা শুরু হয়। এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন মামলায় তারেক রহমানের সাজার রায় বাতিল হয় এবং কিছু মামলায় তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় অব্যাহতি পান। বিএনপি নেতারা বিগত কয়েক মাস ধরেই তারেক রহমানের দ্রুত প্রত্যাবর্তনের কথা বলছিলেন, তবে সুনির্দিষ্ট তারিখ জানাচ্ছিলেন না।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জীবন সংকটাপন্ন হয়ে উঠলে তারেক রহমানের দেশে ফেরার জল্পনা আরও বাড়ে। সেই প্রেক্ষাপটে লন্ডন থেকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে তারেক রহমান লিখেছিলেন, "এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহ-স্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেকোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু... এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।" তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়ামাত্রই তার দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে।
এরপর সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে একাধিকবার বলা হয়েছে যে তারেক রহমানের দেশে ফিরতে কোনো আইনি বাধা নেই।
গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে বাধা দূর হবে: বিএনপি
রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই ব্রিফ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, তারেক রহমান দেশে এসে পৌঁছালে গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে সৃষ্ট বাধাগুলো দূর হয়ে যাবে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের আগমন যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য তিনি দলের নেতা-কর্মীদের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন।
ব্রিফিংয়ে মির্জা ফখরুল আরও জানান, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিএনপি এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে এবং গুলি চালনাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। তিনি মনে করেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যারা দেশে নির্বাচন বানচাল করতে চাইছে, এটি তাদেরই চক্রান্ত হতে পারে।
ঢাকা–৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাসের হাসপাতালে যাওয়া এবং সেখানে উত্তেজনামূলক স্লোগান ও 'মব' সৃষ্টির প্রচেষ্টারও তীব্র নিন্দা জানান মির্জা ফখরুল। তিনি সতর্ক করে দেন যে, এ ধরনের আচরণ করলে বিএনপি বসে থাকবে না এবং সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেবে। বিএনপি কোনো গোলযোগ ও সন্ত্রাস চায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে বিএনপির ওপর কোনো আঘাত এলে তা সহজভাবে নেওয়া হবে না।
মির্জা ফখরুল সবাইকে মব সৃষ্টি না করে এবং নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট না করে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান। ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতারা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন