প্রতীকী ছবি
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আলোচনার শীর্ষে। শিল্প, চিকিৎসা, শিক্ষা থেকে শুরু করে বিনোদন—প্রতিটি খাতে প্রযুক্তির এই অগ্রগতি নতুন দিগন্ত খুলছে। কিন্তু সম্ভাবনার পাশাপাশি সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকিও ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এক খ্যাতনামা রেস্তোরাঁ এআই-চালিত অর্ডার গ্রহণ ব্যবস্থা চালু করেছিল। শুরুতে উদ্ভাবনটি প্রশংসা পেলেও পরে ভুল অর্ডার ও যান্ত্রিক প্রতিক্রিয়ায় গ্রাহকের অসন্তোষ বাড়ে। শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিকে উদ্যোগ গুটিয়ে নিতে হয়। এ অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—প্রযুক্তি যত উন্নতই হোক, মানুষের বিকল্প হিসেবে এটি একেবারে নির্ভরযোগ্য ভাবা যায় না।
অন্যদিকে ইতিবাচক দিকও রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে গার্মিনের নতুন স্মার্টওয়াচের কথা বলা যায়, যাতে যুক্ত হয়েছে স্যাটেলাইট যোগাযোগ সুবিধা। দুর্গম এলাকায় বা জরুরি অবস্থায় এ ধরনের ডিভাইস জীবন রক্ষাকারী ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশের মতো দুর্যোগপ্রবণ দেশে এই প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।
তবে শুধু আমদানি বা ব্যবহার নয়, আমাদের ভাবতে হবে—এই উদ্ভাবনগুলোর কোনটি দেশে তৈরি বা স্থানীয়ভাবে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব। কর্মসংস্থানের দিক থেকেও এটি জরুরি। প্রতিবেশী ভারতে প্রযুক্তিখাতে সম্প্রতি হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে এখনো ফ্রিল্যান্সিংয়ের নিম্ন আয়ের কাজেই সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। এআই, সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা বিশ্লেষণ ইত্যাদি খাতে দক্ষতা অর্জন না করলে তরুণ প্রজন্ম বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।
একই সঙ্গে প্রযুক্তির অপব্যবহারও সমান উদ্বেগের বিষয়। ভুয়া খবর, ডিপফেক ভিডিও কিংবা তথ্যচুরি সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। ইউরোপীয় দেশগুলো এআই নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়নে এগিয়ে গেছে। বাংলাদেশকেও দ্রুত কার্যকর নীতিমালা ও আইনগত কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
প্রযুক্তির স্রোতকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তবে অন্ধ অনুকরণও সমাধান নয়। আমাদের প্রয়োজন দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, যুগোপযোগী নীতি গ্রহণ এবং নৈতিক ব্যবহারের নিশ্চয়তা। অন্যথায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন প্রযুক্তি আশীর্বাদের বদলে অভিশাপে পরিণত হতে পারে।
- মোঃ ফারুক মিল্টন
দক্ষিণ পাইকপাড়া, মিরপুর, ঢাকা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন