জুলাই সনদ কেবল একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়—এটি রক্তে লেখা ইতিহাসের দলিল। চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে যে সুযোগ এনে দিয়েছিল, তার কেন্দ্রবিন্দুতেই ছিল এই সনদ। কিন্তু আজ, বাস্তবায়নের পথে এসে রাজনৈতিক মতভিন্নতা সেই সুযোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
জাতীয় নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এসেছে। ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ঘোষিত সময়সীমার মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া জরুরি। কারণ নির্বাচন পিছিয়ে গেলে শুধু রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাই নয়, অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়বে। কিন্তু নির্বাচন ঘিরেই দেখা দিচ্ছে নতুন জটিলতা—সনদের সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্ন অবস্থান।
সরকার বলছে, সনদের কাজ এগোচ্ছে ধাপে ধাপে। প্রশাসনিক সংস্কার শুরু হয়েছে, অর্থনীতিতেও পরিবর্তনের প্রয়াস আছে। অন্যদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল অভিযোগ করছে, সনদের মূল চেতনা বিকৃত করা হচ্ছে। এক পক্ষ সনদকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করছে, আরেক পক্ষ সেটিকে কেবল নির্বাচনী প্রচারের হাতিয়ার মনে করছে।
অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ৩০টি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে ৮৪টি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পেরেছিল। তাহলে কেন সনদের মৌলিক সংস্কারগুলোতে সমঝোতা হবে না? কেন জনগণের আত্মত্যাগ দলীয় হিসাব-নিকাশে বন্দি হয়ে থাকবে?
জনগণের হতাশা ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। আন্দোলনে যারা জীবন দিলেন, যারা রক্ত দিলেন—তাদের আত্মত্যাগের প্রতিদান যদি আবারও অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি হয়ে থাকে, তবে এ জাতির জন্য সেটি হবে এক বিরাট ব্যর্থতা।
আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বলে, চাপিয়ে দিয়ে সংস্কার হয় না, আবার ক্ষমতায় গিয়ে প্রতিশ্রুতি ভুলে গেলে পরিবর্তনও হয় না। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর সামনে একটিই পথ খোলা—সর্বদলীয় ঐক্য ও বাস্তবসম্মত সমঝোতা।
জুলাই সনদকে ঘিরে যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তা যদি দলগুলো নষ্ট করে ফেলে, তবে ইতিহাস ক্ষমা করবে না। এখনই সময় দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। অন্যথায় এই সনদও থেকে যাবে অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির আরেকটি অধ্যায় হিসেবে।

Good Article
উত্তরমুছুনএকটি মন্তব্য পোস্ট করুন