ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তিনি জানান, “১৪ বছর আগে প্রথমবার টেস্টের নীল ব্যাগি টুপি পরেছিলাম। তখন বুঝিনি, এই ফরম্যাটই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হয়ে উঠবে। এই পথ আমাকে গড়ে তুলেছে, শিখিয়েছে—এই শিক্ষা আমি সারা জীবন বয়ে নিয়ে চলবো।”
ক্রিকেটের সবচেয়ে ধৈর্যের পরীক্ষায় কোহলি শুধু একজন ব্যাটার ছিলেন না, ছিলেন এক অনুপ্রেরণার নাম। আধুনিক যুগে যেখানে টি-টোয়েন্টির মোহে অনেকেই লাল বল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, কোহলি ছিলেন ব্যতিক্রম। টেস্ট ক্রিকেটকে ভালোবেসে তিনি যেমন খেলেছেন, তেমনি নিজের নেতৃত্বে দলকেও সেই ভালোবাসায় ভিজিয়েছেন।
তার বিদায়ের খবরে সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকে এসেছে হৃদয়ছোঁয়া বার্তা। ভারতীয় দলের কোচ গৌতম গম্ভীর এক্সে লেখেন, “সিংহের মতো আবেগপ্রবণ একজন মানুষ। তোমাকে খুব মিস করবো।” আজিঙ্কা রাহানে বলেন, “তার সঙ্গে ড্রেসিংরুম ও মাঠ ভাগ করে নেওয়া ছিল দারুণ এক অভিজ্ঞতা।” তরুণ ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল জানান, “পাজি, আপনাকে ও রোহিত ভাইকে খেলতে দেখেই আমাদের স্বপ্ন গড়ে উঠেছে।”
কেবল ভারতের নয়, বিশ্ব ক্রিকেটের কাছেও কোহলি ছিলেন প্রেরণা। দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি এবি ডি ভিলিয়ার্স লেখেন, “তোমার টেস্ট ক্যারিয়ার ছিল মহাকাব্যিক। তোমার সংকল্প ও দক্ষতা আমাকে সবসময় অনুপ্রাণিত করেছে।”
১২৩ টেস্টে ৪৬.৮৫ গড়ে ৯,২৩০ রান, ৩০টি শতক ও ৩১টি অর্ধশতক—এই সংখ্যাগুলো কোহলির কীর্তির খণ্ডচিত্র মাত্র। তার আসল অবদান ছিল টেস্ট ক্রিকেটকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া। বিসিসিআই তাকে অবসর পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করলেও, কোহলি নিজের সিদ্ধান্তে ছিলেন অটল।
তার বিদায়ে শেষ হলো এক বর্ণাঢ্য অধ্যায়, কিন্তু রেখে গেল এক স্থায়ী প্রভাব—যেটা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন