আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিডি নিউজ সত্যকথা
![]() |
| থাইল্যান্ডের নতুন ভিসা নীতিতে বাতিল হচ্ছে ৬০ দিনের ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা। |
ভিসা নীতিতে কঠোরতার ইঙ্গিত
সোমবার ব্যাংককে আয়োজিত এক মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমানে চালু থাকা ভিসা বিধিমালা সংস্কারের সময় এসেছে। তার মতে, বিদেশিদের জন্য অতিরিক্ত সহজ প্রবেশব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। এই সংস্কার কেবল পর্যটন ভিসার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং শিক্ষার্থী, বিনিয়োগকারী এবং দীর্ঘমেয়াদি সব ধরনের ভিসা ক্যাটাগরি এর আওতায় আসবে।
সরকারের এই নতুন পরিকল্পনা তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপপ্রধানমন্ত্রী পাকর্ন নিলপ্রাপুন্তকে। মূলত বিদেশিদের ব্যাকগ্রাউন্ড চেক বা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াকে আরও নিশ্ছিদ্র করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
৬০ দিনের ভিসামুক্ত সুবিধা কি বন্ধ হচ্ছে?
থাইল্যান্ডের পর্যটন ও ক্রীড়া মন্ত্রী সুরাসাক ফানচারোয়নওয়ারাকুল এক বিস্ফোরক তথ্যে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের জন্য চালু থাকা ৬০ দিনের ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা বাতিল করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভায় এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হতে পারে।
মন্ত্রী সুরাসাক বলেন, "সরকার পর্যটকের সংখ্যার চেয়ে তাদের মানের (Quality) দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। শুধু আগমনের সংখ্যা বাড়লেই দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি সুফল আসে না।" নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কেবল ব্যাংক ব্যালেন্স বা আর্থিক সক্ষমতা দেখালেই ভিসা পাওয়া নিশ্চিত হবে না। আবেদনকারীকে আরও কঠোর স্ক্রিনিং বা ব্যক্তিগত যাচাই-বাছাইয়ের মুখোমুখি হতে হবে।
নিরাপত্তা বনাম অর্থনীতি: দোদুল্যমান থাইল্যান্ড
থাইল্যান্ডের অর্থনীতির একটি বড় অংশ পর্যটন খাতের ওপর নির্ভরশীল। তা সত্ত্বেও কেন এই কঠোরতা? সোমবার প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল বলেন, "ভিসামুক্ত প্রবেশ মানে এই নয় যে শর্তহীনভাবে যে কেউ প্রবেশ করতে পারবে। একসময় প্রশ্ন ছিল কেন থাইল্যান্ড ভিসা-ফ্রি সুবিধা দিচ্ছে না, আর এখন সময় এসেছে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সুবিধার মধ্যে একটি সঠিক ভারসাম্য খুঁজে বের করার।"
বিশ্লেষকরা বলছেন, গত কয়েক বছরে পর্যটন ভিসার অপব্যবহার করে অবৈধ কাজ বা দীর্ঘসময় অবস্থান করার প্রবণতা বাড়ায় দেশটির অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চাপের মুখে রয়েছে। সে কারণেই 'ভিসা রান' বা অননুমোদিত দীর্ঘ অবস্থান ঠেকাতে এই কড়াকড়ি।
পর্যটকদের ওপর প্রভাব
যদি ৬০ দিনের ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা বাতিল হয়, তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পর্যটন বাজারে থাইল্যান্ড কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে যারা স্বল্প বাজেটে বা হুটহাট ভ্রমণে পছন্দ করেন, তাদের জন্য থাইল্যান্ড ভ্রমণ আগের চেয়ে ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠবে। তবে সরকার মনে করছে, এতে করে উচ্চবিত্ত ও প্রকৃত পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সম্মান ও রাজস্ব দুই-ই বৃদ্ধি করবে।
বিডি নিউজ সত্যকথা বিশ্লেষণ
থাইল্যান্ডের এই ভিসা নীতি পরিবর্তনের উদ্যোগকে বিডি নিউজ সত্যকথা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আঙ্গিকে বিশ্লেষণ করছে:
১. গণ-পর্যটন (Mass Tourism) থেকে বিচ্যুতি: থাইল্যান্ড এতকাল ‘সস্তা পর্যটন’ বা গণ-পর্যটনের জন্য বিখ্যাত ছিল। কিন্তু এর ফলে পরিবেশ দূষণ এবং সামাজিক কিছু সমস্যা প্রকট হয়েছে। এই ভিসা পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যাংকক মূলত ‘প্রিমিয়াম ট্যুরিজম’ বা ধনিক শ্রেণির পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে চাইছে।
২. জাতীয় নিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ: অতি সহজে ভিসা পাওয়ার সুযোগ নিয়ে অনেক বিদেশি অপরাধচক্র থাইল্যান্ডকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করছে। কড়াকড়ি আরোপ করলে এসব অপরাধী নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে, যা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক।
৩. বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য বার্তা: বাংলাদেশের বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য বা ভ্রমণের জন্য নিয়মিত থাইল্যান্ড যান। যদি নতুন নিয়ম কার্যকর হয়, তবে ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে আরও সঠিক ও বিস্তারিত নথিপত্র জমা দেওয়ার প্রস্তুতি এখন থেকেই নিতে হবে। আর্থিক সচ্ছলতার পাশাপাশি ভ্রমণের উদ্দেশ্য প্রমাণ করা এখন আগের চেয়ে জরুরি হয়ে পড়বে।
আরও পড়ুন: মাঝরাতে পায়ের পেশিতে তীব্র টান? অবহেলা নয়, জেনে নিন কারণ ও প্রতিকারের সহজ উপায়
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন