আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বিডি নিউজ সত্যকথা
![]() |
| পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র রক্ষায় ট্রাম্পকে মোজতবা খামেনির কড়া হুঁশিয়ারি। ছবি: প্রতীকী। |
ট্রাম্পের হুমকির জবাবে কঠোর বার্তা
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক এবং পারমাণবিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়ার যে পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন, মোজতবা খামেনির এই বিবৃতিকে তারই সরাসরি জবাব হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের সক্ষমতা ধ্বংস করতে চান, কিন্তু তিনি ভুলে গেছেন যে ইরানিরা তাদের পরমাণু এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিকে কেবল অস্ত্র নয়, বরং জাতীয় পুঁজি হিসেবে দেখে। দেশের জল, স্থল এবং আকাশসীমার মতো এগুলোকেও আমাদের বাহিনী সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পাহারা দেবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রচারণা ও আগ্রাসনের দুই মাস অতিবাহিত হওয়ার পর মার্কিন পরিকল্পনার লজ্জাজনক ব্যর্থতা আজ স্পষ্ট। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে এখন এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছে।”
মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার মূলে ‘মার্কিন উপস্থিতি’
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা তার বার্তায় সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণ করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার প্রধান কারণ হলো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকানদের সামরিক উপস্থিতি। তার মতে, “এটি প্রমাণিত যে পারস্য অঞ্চলের মাটিতে মার্কিন বিদেশিদের উপস্থিতি এবং তাদের আস্তানাই এখানকার নিরাপত্তাহীনতার মূল উৎস। আমেরিকার পুতুল ঘাঁটিগুলোর নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার শক্তি নেই, তারা অন্যদের কী নিরাপত্তা দেবে?”
১৬২২ সালে হরমুজ প্রণালি থেকে পর্তুগিজ বাহিনীকে বিতাড়নের ঐতিহাসিক স্মৃতিচারণ করে খামেনি বলেন, এই প্রণালি শতাব্দীকাল ধরে বহু ‘শয়তানের’ লোভের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধে ইরানি বাহিনীর দৃঢ়তা প্রমাণ করেছে যে এই মাটি থেকে বিদেশিদের বিদায় নেওয়ার সময় এসেছে।
নেপথ্যের রহস্য: কোথায় মোজতবা খামেনি?
বিবৃতিটি অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও বিশ্ববাসীর মনে একটি বড় প্রশ্ন ঝুলে আছে—কোথায় মোজতবা খামেনি? গত ৮ মার্চ তিনি সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হলেও আজ পর্যন্ত তাকে জনসম্মুখে দেখা যায়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির সেই ভয়াবহ হামলায় মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই হামলায় মোজতবার একটি পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং একটি হাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি তার মুখমণ্ডল এবং ঠোঁট এতটাই পুড়ে গেছে যে তার কথা বলতে তীব্র কষ্ট হচ্ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার স্বাভাবিক অবয়ব ফিরিয়ে আনতে বড় ধরণের প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন। এই শারীরিক অসুস্থতার কারণেই কি তিনি পর্দার আড়ালে থেকে কেবল লিখিত বিবৃতি দিচ্ছেন? তাসনিম নিউজ এবং রয়টার্সের সূত্রগুলোও এই পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে।
যুক্তরাষ্ট্রবিহীন এক ভবিষ্যতের স্বপ্ন
বিবৃতির শেষাংশে মোজতবা খামেনি এক উজ্জ্বল ও স্বনির্ভর মধ্যপ্রাচ্যের কথা বলেন। তিনি বলেন, “আল্লাহর সাহায্যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ভবিষ্যৎ হবে যুক্তরাষ্ট্রবিহীন। এখানকার জনগণ তাদের নিজেদের প্রগতি ও সমৃদ্ধি নিজেরা নিশ্চিত করবে। হাজার হাজার কিলোমিটার দূর থেকে লোভ নিয়ে আসা বিদেশিদের জন্য এখানে কোনো স্থান নেই—যদি থাকে, তবে তা সাগরের তলদেশ ছাড়া।”
বিডি নিউজ সত্যকথা বিশ্লেষণ
ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। একদিকে শীর্ষ নেতৃত্বের মৃত্যু এবং নতুন নেতার রহস্যময় অনুপস্থিতি, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আগ্রাসী মনোভাব—সব মিলিয়ে তেহরান এখন এক খাদের কিনারায়। মোজতবা খামেনির এই লিখিত বিবৃতি মূলত দেশের মনোবল চাঙ্গা রাখার একটি কৌশল হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে ‘জল-স্থলের’ মতো রক্ষার ঘোষণা দিয়ে ইরান আসলে বিশ্বকে এই বার্তাই দিতে চাইছে যে, তারা যুদ্ধের শেষ পর্যন্ত লড়তে প্রস্তুত। তবে মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে যে গুঞ্জন চলছে, তা যদি সত্য হয়, তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নতুন মাত্রা পেতে পারে। ‘বিডি নিউজ সত্যকথা’ মনে করে, পারস্য উপসাগরের এই উত্তেজনা কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিতে পারে। ইরান শেষ পর্যন্ত তার ‘জাতীয় সম্পদ’ রক্ষা করতে পারে কিনা, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
আরও পড়ুন: জ্যোতিষী এখন চ্যাটজিপিটি! হাতের রেখা দেখে ভবিষ্যৎ বলছে এআই
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন