খেলাধুলা ডেস্ক | বিডি নিউজ সত্যকথা
![]() |
মিরপুরে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজে সমতা আনলো বাংলাদেশ। ছবি: সংগৃহীত। |
শুরুতেই নাহিদ রানার আগুনে বোলিং
সোমবার সকালে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথাম। তবে মিরপুরের উইকেটে স্বাগতিক বোলারদের দাপটের সামনে শুরু থেকেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে সফরকারীরা। ইনিংসের প্রথম স্পেল থেকেই নিউজিল্যান্ড ব্যাটারদের নাভিশ্বাস তুলে ছাড়েন তরুণ পেসার নাহিদ রানা। লাইন এবং লেংথের নিখুঁত মিশ্রণে তিনি একাই ধসিয়ে দেন নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডার।
কিউইদের পক্ষে কেলি একপ্রান্ত আগলে রেখে ৮৩ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেললেও অন্য প্রান্তের ব্যাটাররা ছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। আব্বাসের ১৯ এবং স্মিথের অপরাজিত ১৮ রান ছাড়া কেউ বাংলাদেশের বোলারদের পরীক্ষা নিতে পারেননি। নাহিদ রানা মাত্র ৩২ রান দিয়ে একাই শিকার করেন ৫টি উইকেট, যা ওয়ানডে ক্রিকেটে তার ক্যারিয়ারের সেরা পারফরম্যান্স। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন শরীফুল ইসলাম (২ উইকেট) এবং তাসকিন আহমেদ। ফলে ৪৮.৪ ওভারে ১৯৮ রানেই অলআউট হয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।
লক্ষ্য তাড়া: তানজিদ তামিমের ঝড় ও শান্তর দৃঢ়তা
১৯৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা কিছুটা উদ্বেগের ছিল বাংলাদেশের জন্য। মাত্র ৪ ওভারের মধ্যে ২১ রানেই সাইফ হাসান ও অভিজ্ঞ সৌম্য সরকারকে হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। তবে সেই চাপকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেন তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম এবং নাজমুল হোসেন শান্ত।
তানজিদ তামিম শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক মেজাজে। মাত্র ৩৩ বলে নিজের হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। অন্যপ্রান্তে শান্ত খেলছিলেন ধীরস্থিরভাবে। এই দুজনের ১১০ রানের বিশাল জুটি কার্যত ম্যাচ থেকে নিউজিল্যান্ডকে ছিটকে দেয়। তানজিদ ৫৮ বলে ৭৬ রানের একটি টর্নেডো ইনিংস খেলে আউট হলেও জয় ততক্ষণে হাতের নাগালে চলে আসে। নাজমুল হোসেন শান্ত ৫০ রান করার পর রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়লে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাওহিদ হৃদয়।
অবিচ্ছিন্ন জুটিতে জয় নিশ্চিত
পঞ্চম উইকেটে মিরাজ ও হৃদয়ের ৩২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি ৩৫.৩ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয় বাংলাদেশকে। হৃদয় ৩১ বলে ৩০ এবং মিরাজ ২৫ বলে ৮ রানে অপরাজিত থাকেন। এটি বলের ব্যবধানে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জয়।
ম্যাচ শেষে নাহিদ রানার প্রতিক্রিয়া
ম্যাচসেরার পুরস্কার নিতে এসে নাহিদ রানা বলেন, "আগের ম্যাচে রান বেশি দিয়ে ফেলেছিলাম, তাই আজ পরিকল্পনায় পরিবর্তন ছিল। আজ শুধু উইকেটের দিকে তাকাইনি, লাইন-লেংথ ঠিক রাখতে চেয়েছি। কন্ডিশন কাজে লাগাতে পেরে ভালো লাগছে।"
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড: দ্বিতীয় ওয়ানডে ২০২৬
নিউজিল্যান্ড: ১৯৮/১০ (৪৮.৪ ওভার); কেলি ৮৩, আব্বাস ১৯, স্মিথ ১৮*; (নাহিদ ৫/৩২, শরীফুল ২/৩২, তাসকিন ১/৪৬)।
বাংলাদেশ: ১৯৯/৪ (৩৫.৩ ওভার); তানজিদ ৭৬, নাজমুল ৫০*, হৃদয় ৩০; (লেনক্স ২/৩৬, স্মিথ ১/৪৬)।
ফলাফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: নাহিদ রানা।
সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে ১–১ ব্যবধানে সমতা।
বিডি নিউজ সত্যকথা বিশ্লেষণ: এই জয়ের নেপথ্যে কী?
এই জয়টি বাংলাদেশের ক্রিকেট ভক্তদের জন্য বড় স্বস্তির। আমাদের ক্রিকেট বিশ্লেষক দলের মতে, আজকের জয়ের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে:
১. পেসারদের পুনর্জাগরণ: নাহিদ রানার মতো একজন র পেসার যখন ১৪৫+ গতিতে লাইন নিয়ন্ত্রণ করে বল করেন, তখন যেকোনো বিশ্বমানের ব্যাটিং লাইনআপ ধসে পড়তে বাধ্য। নাহিদের এই 'ফাইফার' বাংলাদেশের পেস ইউনিটের গভীরতা প্রমাণ করে।
২. তানজিদ তামিমের আত্মবিশ্বাস: শুরুতেই দুই উইকেট হারানোর পর সাধারণত বাংলাদেশের ব্যাটাররা খোলসে ঢুকে পড়ে। কিন্তু তানজিদ তামিম আজ সেই প্রথা ভেঙে পাল্টা আক্রমণ করেছেন। তার এই পজিটিভ অ্যাপ্রোচই কিউই বোলারদের লাইন নষ্ট করে দিয়েছে।
৩. মিরপুরের চেনা কন্ডিশন: মিরপুরের উইকেট রিড করতে নিউজিল্যান্ড বারবার ভুল করছে। অন্যদিকে স্বাগতিক হিসেবে মিরাজরা জানতেন কখন স্পিন আর কখন পেস ব্যবহার করতে হবে।
চট্টগ্রামের হাই-স্কোরিং ম্যাচে এই আত্মবিশ্বাস কতটুকু কাজে লাগে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আরও পড়ুন: বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ প্রার্থীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ: হেভিওয়েটদের বিদায়ে বড় চমক
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন