সত্যকথা ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন এমন বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। দেশটিতে অবস্থানকালে নিজের খরচ বহন করার মতো পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য না থাকলে বা সেখানের সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার করলে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা তাৎক্ষণিক বাতিল হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এমনকি এই ধরনের কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে দেশটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্থায়ী অযোগ্যতার কারণ হিসেবেও গণ্য হতে পারে।
শনিবার (২১ মার্চ) দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিশেষ বার্তায় এই কঠোর নির্দেশনার কথা জানানো হয়।
ছবিঃ সংগৃহীতকরদাতাদের অর্থে পরিচালিত সুবিধায় ‘না’
দূতাবাসের বার্তায় বলা হয়েছে, কোনো বিদেশি দর্শনার্থী যদি যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থে পরিচালিত জনকল্যাণমূলক সুবিধার অপব্যবহার করেন বা সেগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পর্যটন, ব্যবসা, পড়াশোনা, সাংবাদিকতা কিংবা ট্রানজিট ভিসাসহ সকল ধরনের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কঠোরভাবে প্রযোজ্য হবে।
জরুরি চিকিৎসা ও আর্থিক সক্ষমতা
মার্কিন দূতাবাস স্পষ্ট করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থায় যারা করদাতাদের অর্থে পরিচালিত চিকিৎসা বা অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করবেন, তাদের ভিসা বাতিল হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। তাই ভ্রমণকারীদের অবশ্যই সম্ভাব্য জরুরি খরচসহ সামগ্রিক ভ্রমণের জন্য পর্যাপ্ত তহবিলের প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে হবে।
ভুয়া নথিতে আজীবন নিষেধাজ্ঞা
ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় যথাযথ প্রস্তুতি এবং আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণপত্র সঙ্গে রাখা জরুরি। দূতাবাস সতর্ক করে বলেছে, কোনো ধরনের ভুয়া নথি উপস্থাপন করা প্রতারণার শামিল। কেউ যদি জাল কাগজপত্রের আশ্রয় নেন, তবে তিনি স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্য ঘোষিত হতে পারেন।
মার্কিন দূতাবাসের এই আকস্মিক সতর্কবার্তা মূলত দেশটির অভিবাসন নীতি আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায়, দর্শনার্থীরা পর্যটন ভিসায় গিয়ে সেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা বা অন্যান্য সরকারি সুবিধা গ্রহণের চেষ্টা করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। দূতাবাসের এই বার্তাটি বাংলাদেশিদের জন্য একটি শক্তিশালী 'রিমাইন্ডার' যে, শুধুমাত্র ভিসা পেলেই হবে না, সেখানে অবস্থানের প্রতিটি মুহূর্তের আর্থিক দায়ভার নিজের। বিশেষ করে যারা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন, তাদের জন্য পর্যাপ্ত ইনস্যুরেন্স বা তহবিল থাকা এখন বাধ্যতামূলক পর্যায়ে চলে এসেছে। এই নিয়ম না মানলে দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন