আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
খালেদা জিয়ার মনোনয়ন ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি
দেশ গঠন, গণতন্ত্র রক্ষা এবং নারী শিক্ষায় অনন্য সাধারণ অবদানের জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর এই সম্মাননায় ভূষিত করা হচ্ছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনবারের এই প্রধানমন্ত্রীর অবদানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই সর্বোচ্চ সম্মানে সিক্ত করা হলো।
পুরস্কারের জন্য মনোনীত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
ব্যক্তি পর্যায়ে মোট ১৫ জনকে এই পদক দেওয়া হচ্ছে, যাদের মধ্যে ৭ জনই মরণোত্তর সম্মাননা পাচ্ছেন:
স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র: খালেদা জিয়া (মরণোত্তর)।
মুক্তিযুদ্ধ: মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর)।
সংস্কৃতি: এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত) এবং বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর)।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: অধ্যাপক জহুরুল করিম (সাবেক সচিব ও ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক)।
সাহিত্য: আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর)।
ক্রীড়া: টেবিল টেনিস কিংবদন্তি জোবেরা রহমান লিনু।
সমাজসেবা: ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক এবং মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর)।
জনপ্রশাসন: কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর)।
গবেষণা ও প্রশিক্ষণ: মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া।
পরিবেশ সংরক্ষণ: আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু), চেয়ারম্যান, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন।
মনোনীত প্রতিষ্ঠানসমূহ
প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে দেশের ৫টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়েছে: ১. ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ (মুক্তিযুদ্ধ) ২. ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চিকিৎসাবিদ্যা) ৩. পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) (পল্লী উন্নয়ন) ৪. এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল (সমাজসেবা) ৫. গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র (সমাজসেবা)
জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নাম নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা
পুরস্কার ঘোষণার পরপরই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এর কারণ হলো, তিনি ১৯৭৭ সালেই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে অবদানের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছিলেন।
তর্ক-বিতর্ক: সাধারণত একই ব্যক্তিকে দুইবার এই পুরস্কার দেওয়ার নজির নেই। গত বছর মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানীর নাম দ্বিতীয়বার প্রস্তাব করা হলেও আইনি জটিলতায় তা বাদ দেওয়া হয়েছিল। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, এটি কোনো আইনি বাধা নয় বরং সরকারের সিদ্ধান্ত। তবে কোনো তথ্যগত অসঙ্গতি থাকলে তা সংশোধন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা।
স্বাধীনতা পুরস্কারের নেপথ্যে
১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা পান:
১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রামের স্বর্ণপদক।
৫ লাখ টাকা নগদ।
একটি পদকের রেপ্লিকা ও সম্মাননাপত্র।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন