সতাকথা ডেস্ক
ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেলের গুদাম ও শোধনাগারে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার পর আজ রোববার সকালে শহরটির আকাশ ছেয়ে গেছে ঘন কালো মেঘে। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর ও আতঙ্কজনক ঘটনা হলো, আকাশ থেকে ঝরছে অদ্ভুত ‘কালো বৃষ্টি’।
তেলে ভেজা কালো বৃষ্টিতে আতঙ্কিত ১ কোটি মানুষ
রোববার সকালে ঘুম থেকে উঠে তেহরানের প্রায় এক কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ করেন এক অপার্থিব দৃশ্য। আকাশ থেকে সাধারণ স্বচ্ছ বৃষ্টির বদলে পড়ছে আলকাতরার মতো কালো রঙের পানি। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন-এর তেহরান প্রতিনিধি ফ্রেড প্লিটজেন এই পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, “আপনারা দেখতে পাচ্ছেন এই বৃষ্টি, বৃষ্টির পানি আসলে কালো। এটি স্পর্শ করলে মনে হচ্ছে এতে তেল মিশ্রিত আছে বা এটি তেলে সিক্ত।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, শাহরান তেল শোধনাগারে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ফলে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ও কার্বন কণা বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। সেই তৈলাক্ত কণাগুলো বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে এই ‘কালো বৃষ্টি’র সৃষ্টি করেছে।
শাহরান শোধনাগারে আগুনের লেলিহান শিখা
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, তেহরানের শাহরান তেল শোধনাগার থেকে আগুনের বিশাল শিখা ও কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী কুণ্ডলী পাকিয়ে আকাশে উঠছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে এই হামলার দায় স্বীকার করে বলেছে, “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হামলা, যা ইরানের সামরিক অবকাঠামোর ক্ষতি আরও গভীর করবে।” তাদের দাবি, এই শোধনাগার থেকে ইরানের সামরিক খাতে জ্বালানি সরবরাহ করা হতো।
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও রেড ক্রিসেন্টের সতর্কতা
এই অস্বাভাবিক বৃষ্টিকে কেন্দ্র করে ইরানে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইরান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (আইআরসিএস) টেলিগ্রাম বার্তায় নাগরিকদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তেল ও রাসায়নিক স্থাপনায় বিস্ফোরণের ফলে বায়ুমণ্ডলে বিষাক্ত কণা ছড়িয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে থাকা এই রাসায়নিক মানুষের ত্বক এবং শ্বাসতন্ত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। নাগরিকদের অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়া এবং বৃষ্টি থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে তেহরান
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল এখন ইরানের সরাসরি সামরিক ঘাঁটির বদলে তাদের লাইফলাইন বা জ্বালানি খাতের ওপর আঘাত হানছে। এতে করে ইরান কেবল অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং তেহরানের মতো জনবহুল শহর দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে। এই ‘কালো বৃষ্টি’ তারই একটি ধ্বংসাত্মক ইঙ্গিত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন