সত্যকথা ডেস্ক
ইরানের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতা ও সামরিক কমান্ডারদের গুপ্তহত্যার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন চরম সীমায় পৌঁছেছে। ইরানের সর্বোচ্চ দ্বিতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রভাবশালী সচিব আলী লারিজানি এবং বাসিজ কমান্ডের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম রেজা সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছে তেহরান। এর প্রতিশোধ নিতে ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের দিকে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান, যাতে অন্তত দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
রাজনৈতিক কাঠামোর দৃঢ়তা নিয়ে ইরান যা বলছে
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এসব হত্যাকাণ্ড ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোকে দুর্বল করতে পারবে না। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখনো ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থার গভীরতা বুঝতে পারেনি। আরাগচি বলেন, "ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো রয়েছে। ব্যক্তি বিশেষের অনুপস্থিতি এই ব্যবস্থার ওপর কোনো দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে না।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পরও রাষ্ট্রযন্ত্র থেমে থাকেনি। বরং দ্রুততার সাথে বিকল্প নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তার মতে, ইরানের রাষ্ট্রব্যবস্থা কোনো একক ব্যক্তির ওপর নয়, বরং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।
নিহত নেতাদের পরিচয় ও প্রভাব
আলী লারিজানি: ৬৭ বছর বয়সী লারিজানি ছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ দ্বিতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব এবং আয়াতুল্লাহ খামেনির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন। তার মৃত্যু ইরানের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গোলাম রেজা সোলাইমানি: বাসিজ বাহিনীর প্রধান সোলাইমানি আইআরজিসি (IRGC)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও পাল্টা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অন্যতম রূপকার।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে টার্গেট করে হত্যা করা যুদ্ধের কোনো স্বাভাবিক নিয়ম নয়, বরং এটি এক ধরনের ‘সন্ত্রাসী কৌশল’। যদিও ইরান দাবি করছে তাদের কাঠামো অটুট, তবুও বারবার শীর্ষ নেতাদের হারানো দীর্ঘমেয়াদে দেশটির সামরিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে লারিজানি ও সোলাইমানির মতো অভিজ্ঞ নেতাদের শূন্যস্থান পূরণ করা সহজ হবে না। অন্যদিকে, এই সংঘাতের সূত্রপাত ও পরিণতির জন্য ইরান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে, যা বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন